পঞ্জাবের রাজনীতিতে এক বিশাল বিস্ফোরণ। শনিবার বিকেলে আম আদমি পার্টির (আপ) হেভিওয়েট নেতা তথা পঞ্জাবের শিল্প ও বিদ্যুৎ মন্ত্রী সঞ্জীব আরোরাকে গ্রেফতার করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। ১০০ কোটি টাকারও বেশি অর্থপাচার ও কর ফাঁকির অভিযোগে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। শনিবার ভোররাত থেকে চণ্ডীগড়, দিল্লি এবং গুরুগ্রামের মোট পাঁচটি এলাকায় ম্যারাথন তল্লাশি চালানোর পর এই কড়া পদক্ষেপ নিলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা।
কী এই অভিযোগ? তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, এই দুর্নীতির জাল বেশ গভীরে বিস্তৃত। অভিযোগ উঠেছে, সঞ্জীব আরোরা ও তাঁর সহযোগী সংস্থাগুলো দিল্লির কিছু অস্তিত্বহীন বা ‘ভুয়ো’ কোম্পানি থেকে ১০০ কোটি টাকার বেশি মূল্যের মোবাইল ফোন কেনার জাল বিল তৈরি করেছিল। এই ভুয়ো বিলের মাধ্যমে সরকারি কোষাগার থেকে কোটি কোটি টাকার ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট (ITC) এবং জিএসটি রিফান্ড আত্মসাৎ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তদন্তে দুবাই কানেকশনেরও হদিশ মিলেছে। অভিযোগ, বিদেশে রফতানির নাম করে কালো টাকা সাদা করার জন্য ‘রাউন্ড ট্রিপিং’ পদ্ধতি ব্যবহার করা হতো।
হাম্পটন স্কাই রিয়েলটি ও ইডির অভিযান এদিন সঞ্জীব আরোরার সরকারি বাসভবন ছাড়াও তাঁর পরিবারের মালিকানাধীন ‘হাম্পটন স্কাই রিয়েলটি লিমিটেড’-এর অফিসেও তল্লাশি চালানো হয়। উল্লেখ্য, এর আগেও একাধিকবার ইডির স্ক্যানারে এসেছিলেন এই প্রভাবশালী নেতা। গত এপ্রিল মাসেও তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চলেছিল, তবে সেবার গ্রেফতারি এড়াতে পারলেও এবার আর শেষরক্ষা হলো না।
তপ্ত রাজনৈতিক মহল সামনেই পঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচন, তার আগে মন্ত্রিসভার সদস্যের এই গ্রেফতারি নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান এই ঘটনাকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে অভিহিত করেছেন। ভগবন্ত মান এক্স হ্যান্ডেলে (পূর্বতন টুইটার) ক্ষোভ উগরে দিয়ে লিখেছেন, “এক বছরে তিনবার রেইড হলো, কিছুই পাওয়া যায়নি। বিজেপি ভয় পেয়ে এজেন্সি পাঠাচ্ছে।”
অন্যদিকে, বিজেপি এবং কংগ্রেস এই গ্রেফতারিকে স্বাগত জানিয়ে আপ সরকারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। প্রাক্তন আপ সাংসদ তথা বর্তমানে বিজেপি নেতা রাঘব চাড্ডা সরব হয়ে বলেন, “পঞ্জাবকে যাঁরা লুঠ করেছে, তাঁদের হিসেব দেওয়ার সময় এসেছে।”
আপাতত সঞ্জীব আরোরাকে আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে ইডি। এই ঘটনায় আর কারা জড়িত, তা জানতে তদন্ত জারি রয়েছে।





