পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্বভার গ্রহণ করতেই সীমান্ত পেরিয়ে এল বিশেষ বার্তা। ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক অভিনন্দন বার্তায় শুভেন্দু অধিকারীকে তাঁর এই নতুন সফরের জন্য আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। শপথ গ্রহণের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ওপার বাংলা থেকে আসা এই সৌজন্য বার্তা দুই দেশের কূটনৈতিক ও আঞ্চলিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
শনিবার রাজভবনে শপথ নেওয়ার পর থেকেই দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শুভেচ্ছার জোয়ারে ভাসছেন শুভেন্দু। তবে শেখ হাসিনার এই বার্তা আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে এই কারণে যে, পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের ভৌগোলিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়।
সুসম্পর্কের নতুন বার্তা
অভিনন্দন বার্তায় শেখ হাসিনা আশা প্রকাশ করেছেন যে, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক আগামী দিনে আরও সুদৃঢ় হবে। বাণিজ্য, যোগাযোগ এবং অভিন্ন সংস্কৃতি— এই তিন স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে দুই বাংলার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সীমান্ত পরিস্থিতির আবহে এই ধরণের উচ্চপর্যায়ের সৌজন্য বিনিময় দুই দেশের সাধারণ মানুষের কাছেও ইতিবাচক সংকেত পৌঁছে দেবে।
নজর যখন উন্নয়নে
শুভেন্দু অধিকারী নিজেও অতীতে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুস্থ ও স্থিতিশীল সম্পর্কের পক্ষে সওয়াল করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর এই নতুন ইনিংসে তিস্তা জলবণ্টন চুক্তি বা সীমান্ত বাণিজ্যের মতো দীর্ঘমেয়াদী ইস্যুগুলোতে কোনও নতুন মোড় আসে কি না, সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের। শেখ হাসিনার এই দ্রুত প্রতিক্রিয়া প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, দিল্লির পাশাপাশি প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোও পশ্চিমবঙ্গের এই নতুন নেতৃত্বকে যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
শপথের দিনেই ওপার বাংলার এই উষ্ণ অভ্যর্থনা কি তবে দুই বাংলার মধ্যে সহযোগিতার এক নতুন দুয়ার খুলে দেবে? সময়ই তার উত্তর দেবে।





