শপথ গ্রহণের রেশ কাটতে না কাটতেই পুরোদস্তুর প্রশাসনিক কাজে নেমে পড়লেন পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার সন্ধ্যায় নবান্নে রাজ্য পুলিশ এবং প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠকে বসেন তিনি। দীর্ঘক্ষণ চলা এই বৈঠক শেষ হতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং প্রশাসনিক কাঠামোয় আমূল পরিবর্তনের কি তবে এটাই শুরু?
সূত্রের খবর, এদিনের বৈঠকে মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব এবং রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশকসহ (ডিজিপি) একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এটাই ছিল পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে তাঁর প্রথম অফিশিয়াল ‘ক্লোজ ডোর’ মিটিং। বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি না হলেও, প্রশাসনিক সূত্রে খবর— রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি।
জিরো টলারেন্স ও প্রশাসনিক সংস্কারের বার্তা
প্রশাসনিক মহলের গুঞ্জন, শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে পুলিশি কাজে কোনও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং থানা স্তরে যাতে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকে কড়া নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এছাড়াও, বিগত দিনে ঝুলে থাকা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফাইল দ্রুত নিষ্পত্তি করারও পরামর্শ দিয়েছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী।
বদলের পথে পুলিশ প্রশাসন?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর এই প্রথম বৈঠকটি আসলে একটি বড় বার্তার নামান্তর। পুলিশের শীর্ষ স্তরে বড় ধরনের রদবদল হতে পারে কি না, তা নিয়েও এখন সচিবালয়ের অলিন্দে কানাকানি চলছে। এদিনের বৈঠকে রাজ্য পুলিশের পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং সাইবার অপরাধ রুখতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়েও প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
নতুন সরকার গঠনের পরেই পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে এই ‘জরুরি বৈঠক’ প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, কাজ করার ক্ষেত্রে শুভেন্দু অধিকারী যে অত্যন্ত তৎপর এবং ‘নো-ননসেনস’ নীতিতে বিশ্বাসী, তা তিনি শুরুতেই বুঝিয়ে দিলেন। এখন দেখার, মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশের পর আগামী কয়েক দিনে রাজ্যের প্রশাসনিক স্তরে কী কী দৃশ্যত বদল চোখে পড়ে।





