রাজনৈতিক ময়দানে এক সময়ের প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী। সাপে-নেউলে সম্পর্কের কথা কারও অজানা নয়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে রাজনীতির রসায়ন কি বদলে যেতে চলেছে? বিজেপি বিরোধী লড়াইকে আরও ধারালো করতে এবার বাম এবং অতি-বাম— উভয় পক্ষকেই পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানালেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নেত্রীর এই ‘ঐক্যবদ্ধ’ হওয়ার ডাক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পুরনো শত্রুতা ভুলে জোটের আহ্বান? বিজেপিকে রুখতে তৃণমূল নেত্রী বরাবরই সরব। তবে এবার তাঁর মুখে সরাসরি বামেদের প্রতি সহযোগিতার আর্জি শোনা গেল। একটি প্রকাশ্য জনসভা থেকে তিনি স্পষ্ট জানান, যে সমস্ত বামপন্থী বা অতি-বামপন্থী দলগুলি বিজেপিকে প্রধান শত্রু হিসেবে মনে করে, তাদের উচিত বিভেদ ভুলে এক মঞ্চে আসা। মমতার কথায়, “দেশ এবং রাজ্যকে বাঁচাতে যারা গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাস করেন, তাদের আজ এক হতে হবে।”
কেন হঠাৎ বামেদের প্রতি এই নরম সুর? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যের বর্তমান শাসনক্ষমতা হাতছাড়া হওয়ার পর বিরোধী শিবিরে নিজেদের জমি ফিরে পেতে মরিয়া তৃণমূল। বিজেপি যেভাবে বাংলায় প্রভাব বিস্তার করেছে, তা রুখতে একা তৃণমূলের পক্ষে লড়াই কঠিন হতে পারে আন্দাজ করেই কি এই কৌশল? বিশেষ করে নবান্নে গেরুয়া শিবিরের পতপতানি দেখে অতি-বাম সংগঠনগুলোর লড়াই করার মানসিকতাকে কাজে লাগাতে চাইছেন মমতা।
বামেদের প্রতিক্রিয়া কী? মমতার এই আহ্বানের পর রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। যদিও বাম শিবিরের একাংশ এখনও মমতার এই ডাককে সন্দেহের চোখেই দেখছে। তাদের মতে, তৃণমূলের সঙ্গে অতীতে অনেক তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে বিজেপি বিরোধিতার স্বার্থে নিচুতলার বাম কর্মী-সমর্থকরা এই আহ্বানে কতটা সাড়া দেন, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
আদর্শের লড়াই নাকি অস্তিত্ব রক্ষার কৌশল? একদা ‘বাম-বিদ্বেষ’ দিয়েই যাঁর রাজনৈতিক উত্থান, তাঁর মুখেই এখন বামেদের প্রশংসাসূচক বা সহযোগিতার বার্তা দেখে অনেকেই একে ‘অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই’ হিসেবে দেখছেন। তবে অতি-বাম সংগঠনগুলো, যারা দীর্ঘকাল ধরে তৃণমূল ও বিজেপি— উভয় পক্ষেরই বিরোধিতা করে আসছে, তারা মমতার এই নতুন সমীকরণকে কীভাবে গ্রহণ করবে, তার ওপরেই নির্ভর করছে আগামীর বাংলার রাজনীতি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ কি বিরোধী জোটে নতুন অক্সিজেন জোগাবে? নাকি এই ঐক্য কেবল কথার কথা হয়েই থেকে যাবে, তা সময়ই বলবে।





