শুভেন্দুর ক্যাবিনেটে দিলীপ ঘোষের রাজকীয় এন্ট্রি! মোদির সেই এক চালে কি তবে সব সমীকরণ বদলে গেল?

রাজ্য রাজনীতির সেই চেনা মেজাজ, সেই পরিচিত ব্যক্তিত্ব। সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভায় রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ঘটল দিলীপ ঘোষের। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এক বিশেষ ‘মাস্টারস্ট্রোকে’ এবার রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিত্বের ব্যাটন হাতে নিতে চলেছেন মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র। শনিবার রাজভবনে শপথ গ্রহণের আসরে দিলীপ ঘোষের নাম ঘোষণা হতেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

মোদির সেই বিশেষ চাল? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দিলীপ ঘোষকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এক অত্যন্ত সুচিন্তিত রণকৌশল। দলের আদি কর্মীদের মধ্যে জনপ্রিয় এবং লড়াকু নেতা হিসেবে পরিচিত দিলীপ ঘোষকে প্রশাসনের সামনের সারিতে নিয়ে এসে একদিকে যেমন আদি-নব্যের দ্বন্দ্ব মেটানোর চেষ্টা করা হল, তেমনই তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে প্রশাসনিক কাজে গতি আনার পরিকল্পনা নিয়েছে দিল্লি।

প্রত্যাবর্তন যখন রাজকীয় বিগত কিছু সময় ধরে দলের অন্দরে দিলীপ ঘোষের ভূমিকা নিয়ে নানাবিধ গুঞ্জন চলছিল। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারীর নতুন মন্ত্রিসভায় তাঁর অন্তর্ভুক্তি প্রমাণ করে দিল যে, গেরুয়া শিবিরে এখনও তিনি অন্যতম ‘হেভিওয়েট’। এদিন রাজভবনের লাল কার্পেটে যখন দিলীপ ঘোষ শপথ নিতে এগিয়ে আসেন, তখন দলীয় কর্মীদের উল্লাস ছিল চোখে পড়ার মতো। সূত্রের খবর, তাঁকে রাজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জনমুখী কোনো দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

শুভেন্দু-দিলীপ জুটি: লক্ষ্য ২০২৬ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী এবং তাঁর বিশ্বস্ত সৈনিক হিসেবে দিলীপ ঘোষ— এই দুই নেতার রসায়ন আগামী দিনে রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার। দিলীপ ঘোষের মতো অভিজ্ঞ সংগঠনক মন্ত্রিসভায় আসায় একদিকে যেমন নিচুতলার কর্মীদের মনোবল বাড়বে, তেমনই গ্রামীণ বাংলার উন্নয়নে তাঁর দক্ষতা বাড়তি সুবিধা দেবে নতুন সরকারকে।

শপথ শেষে দিলীপ ঘোষ তাঁর চেনা মেজাজে সংবাদমাধ্যমকে জানান, “দল যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা নিষ্ঠার সাথে পালন করব। বাংলার মানুষের সেবা করাই এখন একমাত্র লক্ষ্য।” এবার দেখার, নবান্নের অলিন্দে ‘দিলীপ দা’-র এই নতুন ইনিংস কতটা সফল হয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy