আজ পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অভাবনীয় এবং স্মরণীয় দিন হতে চলেছে। সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আজ মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিতে চলেছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। বাংলার প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর এই অভিষেককে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে তিলোত্তমা তপ্ত। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে এই পরিবর্তনকে একটি নতুন যুগের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাজভবনের আঙিনায় আজ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। রাজ্যপাল আর. এন. রবি নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রীকে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা কলকাতা। শুধু রাজ্য নয়, এই মাহেন্দ্রক্ষণের সাক্ষী থাকতে ভিড় জমিয়েছেন দেশের হেভিওয়েট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা।
ইতিমধ্যেই কলকাতায় পৌঁছে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর এই উপস্থিতি শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক উত্তরণকে এক অন্য মাত্রা প্রদান করেছে। প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য এবং বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকছেন। তবে সবথেকে চমকপ্রদ বিষয় হলো ২০টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের কলকাতায় উপস্থিতি। ব্রিগেডের সমাবেশ এবং রাজভবনের শপথ অনুষ্ঠান—সব মিলিয়ে বাংলা এখন সর্বভারতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর এই শপথ গ্রহণ নিছকই একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণে এক বিশাল পরিবর্তনের ইঙ্গিত। বিধানসভা থেকে রাজপথ—শুভেন্দুর লড়াকু ইমেজ তাঁকে এই সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দিয়েছে। আজ থেকে এক নতুন প্রশাসনিক যাত্রা শুরু করতে চলেছেন তিনি। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা এবং রাজ্যের উন্নয়নই এখন তাঁর প্রধান চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে। গঙ্গার পাড়ে আজ যে নতুন সূর্যোদয়ের কথা বলা হচ্ছে, তার ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি কোন দিকে যায়, সেদিকেই নজর গোটা দেশের।





