বিধানসভা নির্বাচনের ফল বেরোতেই কার্যত অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে। প্রত্যাশিত ফল না হওয়ায় এবার শুরু হয়েছে অভ্যন্তরীণ দোষারোপের পালা। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং শৃঙ্খলার পরিপন্থী কাজের অভিযোগে এবার কঠোর অবস্থান নিল তৃণমূলের শৃঙ্খলারক্ষাকারী কমিটি।
শাস্তির খাঁড়া ৫ নেতার ঘাড়ে দলীয় সূত্রের খবর, ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আঁচ পেতেই দলের একাংশ নেতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহের সুর চড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দেরি করেনি শীর্ষ নেতৃত্ব। দলের ৫ জন প্রভাবশালী নেতা-নেত্রীকে শোকজ (Show-cause) করা হয়েছে। শৃঙ্খলারক্ষাকারী কমিটির পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, নির্বাচনের সময় এবং পরবর্তীকালে তাঁদের ভূমিকা নিয়ে দল সন্তুষ্ট নয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই শোকজের সন্তোষজনক উত্তর না দিলে তাঁদের বহিষ্কারের পথেও হাঁটতে পারে দল।
ভিতরের খবর কী? কেন এই হঠকারী সিদ্ধান্ত? রাজনৈতিক মহলের খবর অনুযায়ী, হারের পর থেকেই এই নেতারা প্রকাশ্যে নেতৃত্বের সমালোচনা শুরু করেছিলেন। নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে ভুল বার্তা যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই এই ‘শুদ্ধিকরণ’ অভিযান শুরু করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেনাপতিরা। দলের অন্দরের বিদ্রোহ যাতে দাবানলের মতো ছড়িয়ে না পড়ে, তার জন্যই এই কড়া দাওয়াই।
বিপাকে তৃণমূল নেতৃত্ব একদিকে ক্ষমতা হারানো, অন্যদিকে দলের অন্দরে এই ফাটল— দুই ফলায় এখন রীতিমতো কোণঠাসা ঘাসফুল শিবির। এই ৫ নেতার তালিকায় কারা আছেন, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে থাকলেও দলের পক্ষ থেকে এখনও নামগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে খোলসা করা হয়নি। তবে সূত্রের দাবি, এই তালিকায় উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের কয়েকজন দাপুটে নেতা রয়েছেন।
এখন দেখার, এই শোকজের পর বিদ্রোহ প্রশমিত হয়, না কি বিদ্রোহী নেতারা তৃণমূল ছেড়ে অন্য কোনো বড় পদক্ষেপ নেন। বাংলার রাজনীতিতে এখন একটাই প্রশ্ন— এই পাঁচ নেতা কি তবে ঘাসফুল শিবিরের জন্য পরবর্তী মাথাব্যথার কারণ হতে চলেছেন?




