এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের মেয়ে বেদশ্রুতি। জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষায় মেধা তালিকায় পঞ্চম স্থান (যুগ্মভাবে) দখল করলেও, মেয়েদের মধ্যে প্রথম হয়ে রাজ্যজুড়ে চমক দিয়েছে সে। কিন্তু এই অভাবনীয় সাফল্যের রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হয়েছে নতুন গুঞ্জন। বাংলার এই কৃতি সন্তান কি তবে উচ্চশিক্ষার জন্য রাজ্য ছাড়তে চলেছে? কোথায় দেখা যাবে তাকে আগামী দিনে?
মেয়েদের মধ্যে প্রথম হওয়ার গৌরব রায়গঞ্জ গার্লস হাই স্কুলের ছাত্রী বেদশ্রুতির এই সাফল্যে খুশি গোটা জেলা। সে জানিয়েছে, নিয়ম মেনে পড়াশোনা আর শিক্ষকদের সঠিক দিশানির্দেশই তাকে এই জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে। পরীক্ষার আগে দিনরাত এক করে পড়াশোনা করলেও গান শোনা বা গল্পের বই পড়ার শখ ছাড়েনি সে। তার এই ভারসাম্য বজায় রাখার দক্ষতাই আজ তাকে মেয়েদের মধ্যে শীর্ষস্থানে বসিয়েছে।
বাংলা ছেড়ে কোথায় যাচ্ছে বেদশ্রুতি? ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বেদশ্রুতি জানায়, তার লক্ষ্য একজন চিকিৎসক হওয়া। তবে উচ্চশিক্ষার জন্য সে রাজ্যের বাইরে কোনো নামী প্রতিষ্ঠানে যেতে পারে কি না, তা নিয়ে ইতিমধেই চর্চা শুরু হয়েছে। যদিও বেদশ্রুতির কথায়, “যেখানেই পড়ি না কেন, মানুষের সেবা করাই আমার মূল লক্ষ্য।” তার পরিবারও মেয়ের যে কোনো সিদ্ধান্তকে সমর্থন করতে প্রস্তুত।
শুভেচ্ছার জোয়ার বেদশ্রুতির সাফল্যে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন স্থানীয় বিধায়ক থেকে শুরু করে প্রশাসনিক আধিকারিকরা। তবে মেধার এই লড়াইয়ে বাংলার সেরা মেয়েটির পরবর্তী গন্তব্য ঠিক কোথায় হবে, তা নিয়ে কৌতূহল রয়েই যাচ্ছে। উত্তর দিনাজপুরের সাধারণ মানুষ এখন তাদের এই ঘরের মেয়ের পরবর্তী সাফল্যের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।





