বিহারের গয়া জেলা মানেই বিশ্বখ্যাত ধর্মীয় এবং পর্যটন কেন্দ্র। বোধগয়া থেকে শুরু করে বিষ্ণুপদ মন্দির—এই জেলা বরাবরই পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। কিন্তু গয়ার পরিচিত ছকের বাইরেও যে এক মায়াবী প্রাকৃতিক জগত লুকিয়ে রয়েছে, তা হয়তো অনেকেরই অজানা। পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসা এক অখ্যাত জলপ্রপাত এখন পর্যটকদের জন্য নতুন ‘হটস্পট’ হয়ে উঠেছে।
পাহাড়ের কোলে প্রকৃতির বিস্ময়: লঙ্গুরাহী জলপ্রপাত
ইমামগঞ্জ ব্লকের নির্জন পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত ‘লঙ্গুরাহী জলপ্রপাত’। গত দুই-তিন বছর ধরে এই স্থানটি স্থানীয়দের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যারা ভিড় এড়িয়ে নিরিবিলিতে বন্ধু-বান্ধব বা পরিবারের সাথে সময় কাটাতে চান, তাদের জন্য এটি এক স্বর্গরাজ্য। ইমামগঞ্জ ব্লক সদর থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই জলপ্রপাতটি এখন বিহারের নতুন পিকনিক স্পট হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।
বর্ষার পরেই বাড়ে রূপের ছটা
বর্ষাকাল শেষ হওয়ার ঠিক পরেই লঙ্গুরাহী জলপ্রপাতের আসল রূপ ধরা পড়ে। পাহাড়ের ওপর থেকে জলের ধারা যখন কলকল শব্দে নিচে আছড়ে পড়ে, তখন তৈরি হয় এক অপার্থিব পরিবেশ। শেরঘাটি মহকুমা সহ আশেপাশের এলাকা থেকে প্রতিদিন শত শত তরুণ-তরুণী এবং পরিবার এখানে বনভোজনের জন্য ভিড় জমান। গয়া জেলা সদর থেকে মাত্র ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই স্থানে পৌঁছানো অত্যন্ত সহজ। টু-হুইলার বা ফোর-হুইলার গাড়িতে করে অনায়াসেই এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের স্বাদ নিতে পারেন পর্যটকরা।
বিপদ ও নিরাপত্তার অভাব
সৌন্দর্যের পাশাপাশি লঙ্গুরাহী জলপ্রপাতে লুকিয়ে আছে বিপদও। বর্ষার সময় পাহাড় থেকে হঠাৎ প্রবল বেগে জল নেমে আসায় আকস্মিক বন্যার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। বর্তমানে এখানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো নিরাপত্তা কর্মী বা বেষ্টনী নেই। ফলে বর্ষার ভরা মরসুমে পর্যটকদের সাবধানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সরকারি স্বীকৃতির দাবি
ইমামগঞ্জ এলাকার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি, লঙ্গুরাহী জলপ্রপাতকে সরকারি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হোক। স্থানীয় বিধায়ক ও সরকারের কাছে তাদের আবেদন, নওয়াদা জেলার কাকোলাত জলপ্রপাতের মতো এখানেও পরিকাঠামোর উন্নয়ন করা হোক। পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠলে এই এলাকাটি শুধু গয়ার নয়, বিহারের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গন্তব্য হয়ে উঠতে পারে। তাই যারা পাহাড় আর ঝর্ণার মাঝে হারুয়ানো দিন কাটাতে চান, তাদের জন্য লঙ্গুরাহী হতে পারে সেরা গন্তব্য।





