কেরলের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। এআইসিসি (AICC) সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপালের জন্য এটি একটি অত্যন্ত খুশির খবর। দলীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের সাথে ব্যক্তিগত বৈঠকের সময় নবনির্বাচিত ৬৩ জন বিধায়কের মধ্যে ৪৭ জনই বেণুগোপালের নাম প্রস্তাব করেছেন। এমনকি কেপিসিসি (KPCC) সভাপতি সানি জোসেফও বেণুগোপালের প্রতি তাঁর সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ দিল্লির হাইকমান্ড আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ্যমন্ত্রী পদের নাম ঘোষণা করবে।
সানি জোসেফ ছাড়াও সন্দীপ জি ভেরিয়ার, সজীব জোসেফ, টি ও মোহন এবং উষা বিজয়ন সহ বহু প্রভাবশালী বিধায়ক বেণুগোপালের পক্ষে সওয়াল করেছেন। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী পদের অন্যতম দাবিদার রমেশ চেন্নিথলার জন্য বড়সড় ধাক্কা এসেছে। কারণ, তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আই সি বালকৃষ্ণনও এখন বেণুগোপালকে সমর্থন দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। বর্তমানে চেন্নিথলার পক্ষে মাত্র ৮ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, বর্তমান বিরোধী দলনেতা ভি ডি সতীশান, যাঁকে নিয়ে প্রবল জনমত ছিল, তিনি মাত্র ৬ জন বিধায়কের সমর্থন পেয়েছেন। সতীশান ও চেন্নিথলা উভয়েই পর্যবেক্ষকদের সাথে দেখা করে নিজেদের দাবি পেশ করলেও ওই দিনের বৈঠকে বেণুগোপাল উপস্থিত ছিলেন না।
পর্যবেক্ষক অজয় মাকেন এবং মুকুল ওয়াসনিক নবনির্বাচিত বিধায়কদের পাশাপাশি কংগ্রেস সাংসদ ও প্রবীণ নেতাদের সাথেও আলাদাভাবে কথা বলেছেন। যদিও তিন জন প্রাক্তন কেপিসিসি সভাপতি সতীশানের পক্ষে মত দিয়েছেন, কিন্তু দিল্লির প্রভাবশালী নেতাদের অধিকাংশের ভোট এখন বেণুগোপালের দিকেই ঝুঁকে আছে। পর্যবেক্ষকরা ইতিপূর্বেই দিল্লিতে ফিরে গেছেন এবং তাঁরা কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের কাছে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেবেন। প্রয়োজনে খাড়গে আলোচনার জন্য সানি জোসেফ, সতীশান এবং চেন্নিথলাকে দিল্লিতে তলব করতে পারেন।
ইতিমধ্যেই কংগ্রেস বিধায়ক দলের (CLP) বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে খাড়গেকেই পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী বেছে নেওয়ার পূর্ণ অধিকার দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষে শনি বা রবিবারের মধ্যে হাই-কমান্ড চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবে। এর দুই দিনের মধ্যেই নতুন মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করবে। এই হাই-ভোল্টেজ রাজনৈতিক নাটকের পর দক্ষিণের এই রাজ্যে কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।





