উত্তরবঙ্গের ফাঁসিদেওয়া এলাকায় এক ভয়াবহ পথদুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল ২৭ নম্বর জাতীয় সড়ক। শুক্রবার দুপুরে শিলিগুড়িগামী একটি সরকারি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে একটি মালবাহী লরির মুখোমুখি সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় ঘোষপুকুর এলাকা। এই মারাত্মক সংঘর্ষে বাসচালকসহ অন্তত ২৭ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, বাস এবং লরি দুটিরই সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে গিয়েছে।
সূত্রের খবর, এদিন উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার ওই বাসটি ইসলামপুর থেকে শিলিগুড়ির দিকে আসছিল। ঘোষপুকুরের কাছে উল্টো দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী লরির সঙ্গে বাসটির সরাসরি সংঘর্ষ হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বিকট শব্দ শুনে তাঁরা যখন অকুস্থলে পৌঁছান, তখন চারিদিকে শুধু আর্তনাদ আর রক্ত। লরির কেবিনটি এমনভাবে দুমড়ে গিয়েছিল যে, চালক ও তাঁর সহকারী ভিতরেই আটকে পড়েন। পরবর্তীকালে স্থানীয় মানুষ ও পুলিশ দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর তাঁদের উদ্ধার করে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফাঁসিদেওয়া ও ঘোষপুকুর ফাঁড়ির বিশাল পুলিশ বাহিনী। তড়িঘড়ি আহতদের উদ্ধার করে ফাঁসিদেওয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকদের মতে, আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে স্থানান্তরিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে আহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা চালাচ্ছে প্রশাসন।
এই দুর্ঘটনার জেরে ২৭ নম্বর জাতীয় সড়কে দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল থমকে যায়। পর্যটন মরসুম চলায় পর্যটকদের গাড়ি ও পণ্যবাহী ট্রাকের দীর্ঘ লাইন পড়ে যায় রাস্তায়। পরে পুলিশ ক্রেনের সাহায্যে দুর্ঘটনাগ্রস্ত যান দুটিকে সরিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পুলিশ ইতিমধ্যেই বাস ও লরিটিকে আটক করে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে।
এদিকে, জাতীয় সড়কের নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারির অভাবে এই এলাকায় যানবাহনের গতিবেগ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। গত এক বছরে এই নির্দিষ্ট এলাকায় একাধিকবার দুর্ঘটনা ঘটেছে, যাতে অকালেই ঝরে গিয়েছে বহু প্রাণ। দ্রুত গতির যানবাহনে লাগাম টানতে ট্রাফিক পুলিশের সক্রিয়তা বাড়ানোর দাবি তুলেছেন সাধারণ মানুষ। আজকের এই রক্তাক্ত ঘটনা আবারও প্রমাণ করে দিল যে, জাতীয় সড়কে প্রাণের নিরাপত্তা এখন বড়সড় প্রশ্নের মুখে।





