২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে রাজ্য রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তনের সুর শোনা যাচ্ছে। দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বাংলা দখল করতে চলেছে বিজেপি—এমনই এক খবর এখন রাজনৈতিক মহলের কেন্দ্রবিন্দুতে। সূত্রের খবর, আগামী ৯ মে কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নতুন মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হতে চলেছে। এই মেগা অনুষ্ঠান ঘিরে গোটা রাজ্যে তৈরি হয়েছে তীব্র উত্তেজনা ও কৌতূহল।
নতুন সরকার গঠনের তোড়জোড় শুরু হতেই সবথেকে বেশি জল্পনা শুরু হয়েছে সম্ভাব্য মন্ত্রীদের নাম নিয়ে। যদিও দলের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনো সিলমোহর দেওয়া হয়নি, তবে রাজনৈতিক অলিন্দে ১৭ জন নেতার একটি তালিকা নিয়ে তোলপাড় চলছে। এই তালিকায় যেমন হেভিওয়েট নেতারা রয়েছেন, তেমনই স্থান পেয়েছেন বেশ কিছু নতুন মুখ। সম্ভাব্য সেই তালিকায় নাম রয়েছে— দিলীপ ঘোষ, স্বপন দাশগুপ্ত, অগ্নিমিত্রা পাল, শঙ্কর ঘোষ, সজল ঘোষ, রুদ্রনীল ঘোষ, ইন্দ্রনীল খাঁ, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, সুব্রত ঠাকুর, রথীন্দ্রনাথ বসু, অজিত কুমার জানা, শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, দীপাঞ্জন চক্রবর্তী, দীপক বর্মন, বঙ্কিম ঘোষ, জুয়েল মুর্মু এবং নমুন রাইয়ের মতো ব্যক্তিত্বদের।
এই হাই-ভোল্টেজ পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলেছেন বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বাংলার সার্বিক উন্নয়নই হবে নতুন সরকারের একমাত্র অগ্রাধিকার। দফতর বণ্টন নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই তিনি জানান, “কাকে কোন দফতর দেওয়া হবে, সেটা সম্পূর্ণ আমাদের পার্টির নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত। আমরা দলের সৈনিক। আমাদের নির্বাচনে লড়তে বলা হয়েছিল, লড়েছি এবং জিতেছি। এবার পার্টি যাকে যে দায়িত্ব দেবে, সেই অনুযায়ী কাজ করে বাংলাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই আমাদের লক্ষ্য।”
দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি কোণায় উন্নয়নের প্রয়োজন আছে। কোনো দফতরই ছোট বা বড় নয়, প্রত্যেকটিই গুরুত্বপূর্ণ।” রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দিলীপবাবুর এই মন্তব্য দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্য বজায় রাখার এক কৌশলী বার্তা। নবনির্বাচিত সরকার শপথ নেওয়ার পর প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদল ঘটিয়ে উন্নয়নের গতি বাড়াতে চাইছে বিজেপি। এখন ৯ মে’র দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা বাংলা, কারণ সেদিনই স্পষ্ট হবে কারা বসছেন মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারগুলিতে।





