টালিগঞ্জ মানেই ছিল তৃণমূলের ‘হেভিওয়েট’ অরূপ বিশ্বাসের গড়। দীর্ঘ ১৫ বছরের সেই অভেদ্য দুর্গে এবার ফাটল ধরালেন প্রবীণ অভিনেত্রী তথা বিজেপি প্রার্থী পাপিয়া অধিকারী। বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে অন্যতম বড় চমক টালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র। সেখানে অরূপ বিশ্বাসকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করে এখন আলোচনার কেন্দ্রে পাপিয়া। জয়ের পরেই ইটিভি ভারতের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি, টলিউডের দুর্নীতি এবং বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন তিনি।
টালিগঞ্জ নিয়ে স্বপ্ন ও লক্ষ্য:
জয়ের আনন্দ গায়ে মেখেই পাপিয়া অধিকারী জানান, তাঁর প্রথম লক্ষ্য হবে টালিগঞ্জকে একটি সুন্দর ‘কানন’ হিসেবে গড়ে তোলা। প্রধানমন্ত্রীর আদর্শকে সামনে রেখে তিনি বলেন, “মোদিজির স্বপ্ন—হাতে কাজ, পেটে ভাত এবং মাথার ওপর ছাদ। আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করব। মানুষ যাতে আত্মসম্মান নিয়ে স্বনির্ভর হতে পারে, সেটাই আমাদের প্রধান প্রয়াস।” তিনি আরও যোগ করেন যে, সবে ফল প্রকাশ হয়েছে, দ্রুতই তিনি উন্নয়নের কাজ শুরু করবেন।
টলিউডের ‘অসুখ’ ও নিরাময়:
অভিনয় জগত পাপিয়া অধিকারীর নিজের ঘর। কিন্তু সেই স্টুডিও পাড়ার বর্তমান অবস্থা নিয়ে তিনি অত্যন্ত মর্মাহত। টলিউড প্রসঙ্গে তাঁর চাঞ্চল্যকর মন্তব্য, “সিনেমা জগত এখন ঘুঘুর বাসায় ভরে গিয়েছে। গত ২০ বছর ধরে সেখানে দুর্নীতির গভীর অসুখ দানা বেঁধেছে। আমি ওষুধ ঠিক করে রেখেছি। যারা দুর্নীতিগ্রস্ত, তাদের চিহ্নিত করে টেনে বের করা হবে। আগে তাদের সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে, না হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ:
রাজ্যে ভোট পরবর্তী অশান্তি এবং বিজেপি কর্মী চন্দ্রনাথ রথের খুনের ঘটনা নিয়ে রণংদেহী মেজাজে ধরা দেন পাপিয়া। বিদায়ী সরকারকে ‘অসভ্য ও নিষ্ঠুর’ আখ্যা দিয়ে তিনি সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেন। তাঁর কথায়, “হেরে যাওয়ার পরও গুন্ডামি থামছে না। মাননীয়া এখনও তাঁর গুন্ডাবাহিনীকে অনুপ্রাণিত করছেন। এমন অভব্য মানুষ আমি দেখিনি। ওনাকে চেয়ার সমেত গঙ্গায় ফেলে দেওয়া উচিত।” তিনি আরও দাবি করেন যে, তাঁকে এবং তাঁর দলের ছেলেদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু বিজেপি কর্মীরা ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছেন।
মন্ত্রিত্বের প্রত্যাশা:
অরূপ বিশ্বাসের মতো ‘জায়েন্ট’ নেতাকে হারানোর পর পাপিয়া কি মন্ত্রিসভায় জায়গা পাবেন? এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আমি এখানকার দৈত্যকে হারিয়েছি, তাই মন্ত্রক পাওয়ার যোগ্য আমি নিশ্চয়ই। তবে দল যা সিদ্ধান্ত নেবে, আমি তাতেই খুশি। আলাদা করে কিছু চাইব না।” সবশেষে টালিগঞ্জের সাধারণ মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষের আশীর্বাদেই এই জয় সম্ভব হয়েছে এবং তিনি তাঁদের আস্থার মর্যাদা দেবেন।





