রাজনীতির ময়দানে কাদা ছোড়াছুড়ি আর কোটি টাকার সম্পত্তির আস্ফালনের মাঝেও বেঁচে থাকে কিছু মাটির কাছাকাছি গল্প। যা মনে করিয়ে দেয়, গণতন্ত্রের জয়গান আসলে সাধারণ মানুষেরই জয়। তেমনই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন আউশগ্রামের নবনির্বাচিত বিধায়ক কলিতা মাজি। সাফল্যের শিখরে পৌঁছেও তিনি ভোলেননি তাঁর অতীত লড়াইকে। তাই জীবনের সবচেয়ে বড় দিনটিতে বিলাসবহুল কোনো পোশাক নয়, বরং যাঁর বাড়িতে তিনি দীর্ঘকাল পরিচারিকার কাজ করেছেন, সেই মালিকের দেওয়া শাড়ি পরেই শপথ নিতে চলেছেন কলিতা।
এক অসম লড়াইয়ের জয়
পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের সাধারণ এক গৃহবধূ কলিতা মাজি। দিন চলত মানুষের বাড়িতে বাসন মেজে আর ঘর মুছে। সেই কলিতা যখন বিধানসভা নির্বাচনের লড়াইয়ে নামেন, তখন অনেকেই ভ্রু কুঁচকেছিলেন। কিন্তু সব হিসেব উল্টে দিয়ে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে জয়ী হয়েছেন তিনি। পরিচারিকা থেকে ‘মাননীয়া বিধায়ক’ হয়ে ওঠার এই সফর এখন গোটা রাজ্যের কাছে অনুপ্রেরণা।
মালিকের উপহারই এখন শ্রেষ্ঠ পাওনা
সাফল্যের আলোয় অনেকেই নিজের শিকড় ভুলে যান, কিন্তু কলিতা ব্যতিক্রম। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর এই জয়ের নেপথ্যে তাঁর সেই মালিক পরিবারের বড় অবদান রয়েছে। কলিতার কথায়, “যাঁদের বাড়িতে কাজ করে আমার সংসার চলেছে, তাঁরাই আমার আসল আপনজন। মালিকের পরিবার আমাকে কেবল কাজ দেয়নি, ভালোবেসেছে এবং এই লড়াইয়ে সাহস জুগিয়েছে। তাই তাঁদের দেওয়া উপহারের শাড়ি পরেই আমি পবিত্র বিধানসভায় পা রাখতে চাই।”
সাধারণত্বের জয়গান
শপথগ্রহণের আগে কলিতার এই সিদ্ধান্ত সামাজিক মাধ্যমে ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়েছে। নেটিজেনরা বলছেন, কলিতা মাজির এই আচরণ প্রমাণ করে যে পদমর্যাদা কেবল দায়িত্বের জন্য, অহংকারের জন্য নয়। সাধারণ মধ্যবিত্ত ঘরের এই হার না মানা জেদ এবং আভিজাত্যের অভাবই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে।
আউশগ্রামের মানুষের প্রত্যাশা
কলিতার হাত ধরে আউশগ্রামের গরিব-দুঃখী মানুষেরা এখন নতুন আশার আলো দেখছেন। তাঁদের বিশ্বাস, তাঁদের ঘর থেকে উঠে যাওয়া এই মানুষটিই তাঁদের অভাব-অভিযোগগুলো সরকারের কান পর্যন্ত পৌঁছে দেবেন। ক্ষমতার অলিন্দে গিয়েও কলিতা যেন সেই পুরনো কলিতাই থাকেন, এমনটাই প্রার্থনা গ্রামবাসীর।
পরের বিধানসভা অধিবেশনে কলিতার অভিষেক এবং তাঁর আগামী দিনের কাজ নিয়ে এক্সক্লুসিভ খবরের জন্য চোখ রাখুন DailyHunt-এ। আপনার কি মনে হয়, কলিতা মাজি কি পারবেন রাজনীতির পরিমণ্ডলে এই সারল্য ধরে রাখতে? কমেন্টে আমাদের জানান।





