“ভোটের জয় কি খুনের লাইসেন্স?” লেনিন মূর্তির পাদদেশ থেকে মমতাকে কড়া হুঁশিয়ারি বামেদের!

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে গিয়েছে। দীর্ঘ মেয়াদের পর নবান্নের দখল গিয়েছে অন্য শিবিরের হাতে। কিন্তু এই পালাবদলের আবহেও সরব রইল আলিমুদ্দিন। বৃহস্পতিবার ধর্মতলার লেনিন মূর্তির পাদদেশে এক জনসভায় দাঁড়িয়ে শাসক ও বিরোধী— উভয় পক্ষকেই তীব্র নিশানা করলেন বামপন্থী নেতৃত্ব। তাঁদের সাফ কথা, “ভোটে জিতে ক্ষমতায় আসা মানেই সাধারণ মানুষের ওপর সন্ত্রাসের লাইসেন্স পাওয়া নয়।”

ধর্মতলায় বামেদের হুঙ্কার

রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষিপ্ত অশান্তির প্রতিবাদে এদিন সমাবেশের ডাক দিয়েছিল বামফ্রন্ট। উপস্থিত ছিলেন মহম্মদ সেলিম, সুজন চক্রবর্তীদের মতো হেভিওয়েট নেতারা। লালঝান্ডার মিছিলে এদিন ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। বক্তাদের গলায় বারংবার উঠে এল গণতন্ত্র এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার প্রশ্ন। তাঁদের দাবি, জয়ের দম্ভ যেন কোনোভাবেই অরাজকতায় রূপ না নেয়।

“সন্ত্রাস কোনো সমাধান নয়”

এদিন সভা থেকে বাম নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্বাচনের ফলাফল যে দিকেই যাক না কেন, রাজ্যের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে। সিপিআইএম নেতৃত্বের অভিযোগ, ভোটের পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর আক্রমণ চালানো হচ্ছে। লেনিনের মূর্তির সামনে দাঁড়িয়ে তাঁরা স্পষ্ট জানান, “গণতন্ত্রে সংখ্যাতত্ত্বের জয় মানেই বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করার অধিকার পাওয়া নয়। যদি সন্ত্রাস চালানো হয়, তবে বামপন্থীরা রাজপথ ছাড়বে না।”

গণতন্ত্র রক্ষার ডাক

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যের নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতেই বামেদের এই সক্রিয়তা। একদিকে যখন সরকার পরিবর্তনের আনন্দে মেতেছে এক পক্ষ, অন্যদিকে তখন শাসনব্যবস্থাকে হুঁশিয়ারি দিয়ে ময়দানে নেমে পড়ল লাল শিবির। এদিনের সমাবেশ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন।

নতুন সরকারের শপথগ্রহণ এবং রাজ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রতি মুহূর্তের ব্রেকিং আপডেট পেতে চোখ রাখুন DailyHunt-এ। আপনার কি মনে হয়, ভোটের পর কি রাজ্যে সন্ত্রাস বন্ধ হবে? কমেন্টে আপনার মতামত জানান।