নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই সরগরম ছিল রাজ্য রাজনীতি। কিন্তু বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তা এক নজিরবিহীন নাটকীয় মোড় নিল। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর সাধারণত যা দস্তুর, সেই অনুযায়ী পদত্যাগ করতে অস্বীকার করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর ঠিক তার পরেই কড়া পদক্ষেপ নিলেন রাজ্যপাল আর এন রবি। ভারতীয় সংবিধানের ১৭৪ (২) (বি) ধারা প্রয়োগ করে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন তিনি।
কেন এমন চরম সিদ্ধান্ত?
সম্প্রতি প্রকাশিত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গিয়েছে, ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৭টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বিজেপি। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস নেমে এসেছে মাত্র ৮০টি আসনে। সাধারণত এই পরিস্থিতিতে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের কাছে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন।
কিন্তু গত মঙ্গলবার এক জনাকীর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দেন, “জনগণ আমাদের হারায়নি, এটি একটি গভীর ষড়যন্ত্র এবং লুটের ফসল। আমি রাজভবনে যাব না, ইস্তফাও দেব না।” মুখ্যমন্ত্রীর এই অনড় অবস্থানের কারণে রাজ্যে এক অভূতপূর্ব সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়। রাজ্যপাল রবি জানান, যেহেতু বর্তমান মন্ত্রিসভার আইনি মেয়াদ ৭ মে শেষ হয়ে যাচ্ছে এবং মুখ্যমন্ত্রী ইস্তফা দিতে অস্বীকার করছেন, তাই সংসদীয় গণতন্ত্র বজায় রাখতে বিধানসভা ভেঙে দেওয়া ছাড়া আর কোনো পথ খোলা ছিল না।
রাজ্যপালের নির্দেশে যা বলা হয়েছে
রাজভবন থেকে প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রাজ্যপাল তাঁর সাংবিধানিক ক্ষমতা ব্যবহার করে ৭ মে ২০২৬ তারিখ থেকেই বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ কার্যকর করেছেন। এর ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভার আইনি বৈধতা আর রইল না। এখন থেকে নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত রাজ্যে পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।
তৃণমূল ও বিজেপির পাল্টা প্রতিক্রিয়া
তৃণমূল শিবিরের দাবি, নির্বাচনের গণনায় কারচুপি হয়েছে এবং ষড়যন্ত্র করে তাঁদের হারানো হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যে এই রায়কে ‘লুট করা জনাদেশ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। অন্যদিকে, বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংবিধানকে চ্যালেঞ্জ করছেন। তাঁরা অবিলম্বে রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করার আর্জি জানিয়েছেন।
বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার এই নির্দেশিকা বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অত্যন্ত বিরল ঘটনা। এর ফলে আগামী কয়েক দিন নবান্ন ও রাজভবনের লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।
বাংলার রাজনীতি ও প্রশাসনিক বদলের প্রতি মুহূর্তের আপডেট পেতে চোখ রাখুন DailyHunt-এ।





