বিহারের রাজনীতিতে এক নতুন ভোরের সূচনা হলো। পাটনার ঐতিহাসিক গান্ধী ময়দান আজ সাক্ষী থাকল এক ঐতিহাসিক ক্ষমতার পালাবদলের। এনডিএ-র বিশাল শক্তিপ্রদর্শনের মধ্য দিয়ে বিহারের শাসনভার গ্রহণ করলেন সম্রাট চৌধুরী। তবে এই রাজ্যাভিষেক ছাপিয়ে রাজনীতির অলিন্দে সবচেয়ে বেশি চর্চা হচ্ছে একটি নামকে ঘিরে— নিশান্ত কুমার। বিহারের দীর্ঘদিনের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের পুত্র নিশান্ত আজ আনুষ্ঠানিকভাবে পা রাখলেন সক্রিয় রাজনীতিতে।
সম্রাটের নতুন মন্ত্রিসভা: তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার মেলবন্ধন
এদিন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সম্রাট চৌধুরীর শপথ গ্রহণের পাশাপাশি তাঁর মন্ত্রিসভার ৩২ জন নতুন সদস্য শপথ গ্রহণ করেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ৩২ জন মুখের নির্বাচনের মাধ্যমে এনডিএ নেতৃত্ব বিহারে সামাজিক ও জাতিগত সমীকরণের এক নিখুঁত ব্যালেন্স তৈরি করতে চেয়েছে। মন্ত্রিসভায় যেমন অভিজ্ঞ রাজনীতিকরা স্থান পেয়েছেন, তেমনই জায়গা করে নিয়েছেন একঝাঁক তরুণ মুখ, যা বিহারের প্রশাসনিক কাজে নতুন গতি আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনীতিতে নিশান্তের অভিষেক: উত্তরসূরি কি তৈরি?
এতদিন নীতীশ কুমার তাঁর পরিবারকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখলেও, আজকের প্রেক্ষাপট ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। নিশান্ত কুমারের রাজনীতিতে আগমনের খবর চাউর হতেই গান্ধী ময়দানে সমর্থকদের মধ্যে প্রবল উন্মাদনা দেখা দেয়। যদিও নীতীশ কুমার সবসময়ই পরিবারতন্ত্রের বিরোধিতা করে এসেছেন, কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিশান্তের এই ‘এন্ট্রি’ বিহারের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে জেডিইউ-র রাশ কার হাতে থাকবে, তার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এনডিএ-র শক্তিপ্রদর্শন ও বিরোধীদের বার্তা
এদিনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় স্তরের একাধিক হেভিওয়েট নেতার উপস্থিতি বিহারে এনডিএ-র সংহতিকে আরও একবার প্রমাণ করল। লালু প্রসাদ যাদব এবং তেজস্বী যাদবের ‘মহাগঠবন্ধন’-কে কড়া টক্কর দিতে যে বিজেপি-জেডিইউ জোট প্রস্তুত, তা আজকের ভিড় থেকেই স্পষ্ট। সম্রাটের রাজ্যাভিষেক আসলে বিহারে বিরোধী শিবিরের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
এখন দেখার, ৩২ জন নতুন যোদ্ধাকে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী বিহারের উন্নয়নে কতটা সফল হন এবং ‘জুনিয়র নীতীশ’ অর্থাৎ নিশান্ত কুমার বাবার উত্তরাধিকারকে কতটা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন।





