‘ভবানীপুরে মমতা হারলেই আজ বেঁচে থাকতেন চন্দ্রনাথ!’ বারাসতে শুভেন্দুর বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড় বাংলা

উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতে এক দলীয় সভায় যোগ দিয়ে ফের একবার রাজ্য় রাজনীতিতে বোমা ফাটালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সদ্যপ্রয়াত তৃণমূল নেতা ও মন্ত্রী চন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের মৃত্যু নিয়ে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করলেন তিনি। শুভেন্দুর দাবি, ২০২৪-এর নির্বাচনে ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রীকে পরাজিত করতে না পারার ‘গ্লানি’ এবং পরবর্তী রাজনৈতিক চাপই চন্দ্রনাথের অকাল প্রয়াণের নেপথ্যে দায়ী।

বিস্ফোরক শুভেন্দু

এদিন বারাসতের মঞ্চ থেকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “ভবানীপুরে যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমরা সেই সময় হারিয়ে দিতে পারতাম, তবে আজ চন্দ্রনাথকে এভাবে অকালে চলে যেতে হতো না।” তাঁর ইঙ্গিত ছিল, প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক যে চাপ মন্ত্রীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়, তা অনেক ক্ষেত্রেই সহ্য করার ক্ষমতা থাকে না। বিরোধী দলনেতার এই মন্তব্যে উপস্থিত রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে গুঞ্জন শুরু হয়।

লক্ষ্য যখন ভবানীপুর

শুভেন্দু বরাবরই ভবানীপুর কেন্দ্রের ফলাফল নিয়ে তৃণমূলকে বিঁধে আসছেন। তাঁর মতে, ওই কেন্দ্রে জয় পেলে বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস অন্যরকম হতো। এদিন চন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের মতো এক জন নেতার মৃত্যুকে সেই রাজনৈতিক হারের সঙ্গে জুড়ে দিয়ে তিনি আসলে নবান্নের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ বাড়াতে চেয়েছেন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

তৃণমূলের পাল্টা জবাব

শুভেন্দুর এই বক্তব্যের পর বসে থাকেনি ঘাসফুল শিবিরও। তৃণমূলের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, “মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করা বিজেপির মজ্জাগত। চন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য দলের একনিষ্ঠ সৈনিক ছিলেন এবং তাঁর প্রয়াণ আমাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। সেটা নিয়ে কুৎসিত রাজনীতি করা একমাত্র শুভেন্দু অধিকারীর পক্ষেই সম্ভব।”

বারাসতের এই সভা থেকে শুভেন্দু কেবল চন্দ্রনাথের প্রসঙ্গই তোলেননি, বরং আসন্ন দিনগুলোতে বিজেপির লড়াই যে আরও তীব্র হবে, সেই বার্তাও দিয়েছেন। তবে এক জন প্রয়াত মন্ত্রীকে নিয়ে তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে চায়ের দোকান— সর্বত্রই এখন চর্চা তুঙ্গে। সব মিলিয়ে শুভেন্দুর এই ‘বিস্ফোরণ’ বাংলার রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy