পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের ‘পরমাণু অস্ত্রের ভয়’ দেখানোর কৌশলকে এবার ‘ধাপ্পাবাজি’ বলে উড়িয়ে দিলেন ভারতীয় নৌসেনার ডিরেক্টর জেনারেল (অপারেশনস) ভাইস অ্যাডমিরাল এএন প্রমোদ। বৃহস্পতিবার ‘অপারেশন সিন্দুর’ (Operation Sindoor)-এর এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক হাই-প্রোফাইল সাংবাদিক বৈঠকে তিনি এই বিস্ফোরক দাবি করেন। তাঁর এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে তো বটেই, বিশেষ করে ইসলামাবাদের সামরিক নীতিনির্ধারকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিয়েছে।
পরমাণু ব্ল্যাকমেলের দিন শেষ ভাইস অ্যাডমিরাল প্রমোদ এদিন স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, পাকিস্তান এতদিন ভারতকে পরমাণু হামলার ভয় দেখিয়ে যে ‘ব্ল্যাকমেল’ করার চেষ্টা করত, গত বছরের সামরিক অভিযানে তার পর্দা ফাঁস হয়ে গিয়েছে। তিনি বলেন, “পাকিস্তানের হৃদপিণ্ডের গভীরে ঢুকে যখন ভারত নিখুঁত নিশানায় সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটিগুলো গুঁড়িয়ে দিয়েছিল, তখনই আমরা তাদের পরমাণু জুজুকে স্রেফ ধাপ্পাবাজি বা ‘ব্লাফ’ হিসেবে প্রমাণ করে দিয়েছি।” তাঁর মতে, ভারত এখন আর পাকিস্তানের এই ফাঁপা হুমকিতে কান দেয় না।
অপারেশন সিন্দুর: এক ঐতিহাসিক মোড় ২০২৫ সালের মে মাসে পরিচালিত ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে নৌসেনা কর্তা জানান, দীর্ঘ পাল্লার আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করে ভারত বুঝিয়ে দিয়েছে যে পাকিস্তানের কোনও প্রান্তই এখন আর নিরাপদ নয়। তিনি বলেন, “অপারেশন সিন্দুর ছিল আমাদের সক্ষমতার একটি ট্রেলার মাত্র। যদি আমাদের ফের চ্যালেঞ্জ জানানো হয়, তবে আমাদের পরবর্তী প্রতিক্রিয়া হবে আরও বিধ্বংসী।”
নৌসেনার রণকৌশল ও দেশীয় শক্তি ভাইস অ্যাডমিরাল প্রমোদ আরও জানান, ওই অভিযানের সময় ভারতীয় নৌসেনার অগ্রিম মোতায়েন এবং কৌশলগত অবস্থান পাকিস্তান নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীকে তাদের উপকূলরেখার ভেতরেই বন্দি করে রাখতে বাধ্য করেছিল। তিনি বলেন, “ব্রহ্মস, আকাশ এবং আমাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি রণতরীগুলো প্রমাণ করে দিয়েছে যে আত্মনির্ভর ভারত আজ কতটা শক্তিশালী। আমরা কেবল আকাশ বা মাটি নয়, সমুদ্রের গভীর থেকেও শত্রুকে ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখি।”
আগামীর বার্তা: ‘শত্রু পক্ষকে বুঝতে হবে’ যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বায়ুসেনা ও সেনার শীর্ষ আধিকারিকরাও। অখিলেশ যাদব থেকে শুরু করে বিরোধী শিবিরের নেতাদের সমালোচনার জবাব না দিলেও, সামরিক কর্মকর্তাদের সুর ছিল অত্যন্ত কড়া। ভাইস অ্যাডমিরাল প্রমোদের সাফ কথা— “ভারত শান্তি চায় ঠিকই, কিন্তু সেই শান্তিকে যদি কেউ দুর্বলতা মনে করে, তবে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ। আমরা এখন আর শুধু পাল্টা আক্রমণ করি না, বরং যুদ্ধের ময়দান কেমন হবে তা আমরাই ঠিক করি।”
গত বছরের ৭ মে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ৯টি সন্ত্রাসবাদী আস্তানায় ভারত যে অতর্কিত হামলা চালিয়েছিল, তার বর্ষপূর্তিতে ভাইস অ্যাডমিরাল প্রমোদের এই মন্তব্য নতুন করে ভারত-পাক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পারদ চড়িয়ে দিল।





