মধ্যমগ্রামের সেই অভিশপ্ত বুধবার রাতের হাড়হিম করা স্মৃতি এখনও তাজা। যে নৃশংস হামলায় বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে প্রাণ হারাতে হয়েছে, সেই একই ঘটনায় মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসার লড়াই চালাচ্ছেন তাঁর দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত গাড়ি চালক বুদ্ধদেব বেরা। আততায়ীদের ছোঁড়া এক ঝাঁক বুলেটের মধ্যে তিনটি বিদ্ধ হয়েছিল বুদ্ধদেবের শরীরে। বর্তমানে কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।
বুলেটের ক্ষত আর বাঁচার লড়াই হাসপাতাল সূত্রে খবর, চালক বুদ্ধদেব বেরার বুকে একটি এবং পেটে দুটি গুলি লেগেছে। অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে যখন হাসপাতালে আনা হয়েছিল, তখন তাঁর শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছিল। রাতেই তাঁর একটি জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বুদ্ধদেবের শরীর থেকে দুটি বুলেট বের করা সম্ভব হলেও একটি এখনও ভেতরে রয়ে গিয়েছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টা তাঁর জন্য অত্যন্ত সংকটজনক।
স্টিয়ারিং হাতেই শেষ চেষ্টা প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, যখন আততায়ীরা বাইকে করে এসে সাদা স্করপিও গাড়িটিকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে, তখন বুদ্ধদেব পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে কাঁচ ভেঙে বুলেটের বৃষ্টি শুরু হওয়ায় তিনি স্টিয়ারিংয়ের ওপরই লুটিয়ে পড়েন। চন্দ্রনাথ রথকে লক্ষ্য করে চালানো গুলির বেশ কয়েকটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে বুদ্ধদেবের শরীরে লাগে। তবুও যন্ত্রণায় কাতর অবস্থায় তিনি গাড়িটি কিছুটা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন যাতে হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচা যায়।
একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী তদন্তকারীদের মতে, এই শ্যুটআউটের একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী এবং সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হলেন চালক বুদ্ধদেব। আততায়ীরা ঠিক কজন ছিল, তারা কোন দিক থেকে এসেছিল এবং তাদের মুখ ঢাকা ছিল কি না— এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর একমাত্র বুদ্ধদেবের বয়ানেই মিলতে পারে। সেই কারণেই তাঁর কেবিনের বাইরে কড়া পুলিশি প্রহরার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পরিবারের আহাজারি বুদ্ধদেবের পরিবার এখন শুধুই অলৌকিক কিছুর অপেক্ষায়। তাঁর স্ত্রী ও আত্মীয়দের দাবি, “উনি কেবল নিজের ডিউটি করছিলেন। কেন একজন নিরপরাধ চালককে এভাবে মারা হলো?” শুভেন্দু অধিকারীর পক্ষ থেকেও বুদ্ধদেবের চিকিৎসার সবরকম খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে বলে দলীয় সূত্রে খবর।
মধ্যমগ্রামের এই শ্যুটআউট কি কেবল রাজনৈতিক খুনের চেষ্টা ছিল, নাকি এর পেছনে আরও বড় কোনও ষড়যন্ত্র ছিল— তা খতিয়ে দেখতে বুদ্ধদেবের সুস্থ হয়ে ওঠা এখন অত্যন্ত জরুরি।





