বাংলা থেকে শিক্ষা! ২০২৭-এ যোগী-দুর্গ ভাঙতে অখিলেশের তুরুপের তাস ‘হালকা হিন্দুত্ব’, নয়া ছক সমাজবাদী শিবিরে

উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে এক বিশাল বিবর্তনের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। ২০২৭-এর বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে সমাজবাদী পার্টির সনাতনী ইমেজে আমূল পরিবর্তনের পথে হাঁটছেন অখিলেশ যাদব। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয় এবং তাঁর ‘সফট হিন্দুত্ব’ বা হালকা হিন্দুত্বের কৌশল থেকে বড় পাঠ নিয়েছেন সপা প্রধান। মুসলিম-যাদব (MY) সমীকরণের বাইরে বেরিয়ে এবার সংখ্যাগুরু হিন্দু ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসাতে সব ধরনের ধর্মীয় ছুঁৎমার্গ ঝেড়ে ফেলছেন তিনি।

মমতার মডেলে ভরসা এক সময় সমাজবাদী পার্টিকে নিয়ে অভিযোগ ছিল যে তারা কেবল একটি নির্দিষ্ট সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের তুষ্টিকরণ করে। কিন্তু বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে চণ্ডীপাঠ করে বা মন্দির দর্শন করে বিজেপির ‘হিন্দুত্ব’ তাসকে ভোঁতা করে দিয়েছিলেন, সেই একই পথে হাঁটতে চাইছেন অখিলেশ। ২০২৭-এর লড়াইয়ে তিনি নিজেকে একজন ‘সাচ্চা হিন্দু’ হিসেবে তুলে ধরতে মরিয়া। মন্দিরে প্রার্থনা থেকে শুরু করে সাধু-সন্তদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা— সবক্ষেত্রেই তাঁর সক্রিয়তা এখন চোখে পড়ার মতো।

‘নব্য-সমাজতন্ত্রী’ অখিলেশ অখিলেশ যাদবের এই নতুন অবতারকে রাজনৈতিক মহল ‘নব্য-সমাজতন্ত্র’ বলে অভিহিত করছে। যেখানে সমাজতন্ত্রের আদর্শের সঙ্গে ধর্মের কোনও সংঘাত থাকবে না। দলের কর্মীদের তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, বিজেপি-র সাম্প্রদায়িক রাজনীতির পাল্টা জবাব হবে ‘উদার হিন্দুত্ব’। অখিলেশ বুঝতে পেরেছেন, কেবল মুসলিম ভোটের ওপর ভর করে লখনউয়ের কুর্সি দখল করা অসম্ভব। তাই ওবিসি (OBC) এবং দলিত ভোটের পাশাপাশি উচ্চবর্ণের হিন্দু ভোট টানতে ‘সফট হিন্দুত্ব’ই এখন তাঁর প্রধান হাতিয়ার।

বিজেপি-র হিন্দুত্বে বড় চ্যালেঞ্জ? যোগী আদিত্যনাথের ‘কট্টর হিন্দুত্ব’র বিপরীতে অখিলেশের এই ‘হালকা হিন্দুত্ব’ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তবে গত লোকসভা নির্বাচনে সমাজবাদী পার্টির আসন বৃদ্ধি প্রমাণ করেছে যে অখিলেশের এই কৌশল ধীরে ধীরে কাজ করছে। উত্তরপ্রদেশের সাধারণ মানুষের কাছে নিজেকে ‘বিকাশ’ এবং ‘বিশ্বাস’— উভয়ের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরাই তাঁর লক্ষ্য।

উপসংহার আগামী ২০২৭-এর ভোট যুদ্ধ কেবল উন্নয়ন বা জাতপাতের হবে না, বরং লড়াই হবে কার হিন্দুত্ব বেশি গ্রহণযোগ্য। অখিলেশ যাদব কি পারবেন বাংলায় তৃণমূলের সাফল্যের পুনরাবৃত্তি উত্তরপ্রদেশে ঘটাতে? লখনউয়ের অলিতে-গলিতে এখন এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে।