পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের অপেক্ষায় তিলোত্তমা। রবিবার ব্রিগেডের ময়দানে লক্ষ লক্ষ মানুষের উপস্থিতিতে শপথ নিতে চলেছে বিজেপির নতুন সরকার। কিন্তু এই মেগা ইভেন্টের দিনে আকাশের মতিগতি কেমন থাকবে? জনসভায় আসা কর্মী-সমর্থকদের কি রোদ-বৃষ্টির ঝক্কি পোহাতে হবে? আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিন প্রকাশ পেতেই দুশ্চিন্তা আর স্বস্তির এক মিশ্র ছবি ধরা পড়েছে।
বৃষ্টির ভ্রুকুটি দক্ষিণবঙ্গে হাওয়া অফিস সূত্রে খবর, আগামী রবিবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে আবহাওয়া মনোরম থাকার সম্ভাবনা খুব একটা নেই। উল্টে বঙ্গোপসাগর থেকে আসা জলীয় বাষ্পের জেরে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে বইতে পারে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া। ফলে ব্রিগেডে যখন শপথের মঞ্চ সাজানো হবে, তখন কালবৈশাখীর মতো পরিস্থিতির আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না আবহাওয়াবিদ্যা।
কলকাতার জন্য বিশেষ পূর্বাভাস কলকাতায় আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বজায় থাকলেও বিকেলের দিকে আবহাওয়া পরিবর্তনের সম্ভাবনা প্রবল। রবিবার অর্থাৎ শপথের দিন শহর ও শহরতলিতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বিশেষ করে খোলা ময়দানে অর্থাৎ ব্রিগেডে যারা উপস্থিত থাকবেন, তাদের জন্য ঝড়বৃষ্টি কিছুটা বিড়ম্বনার কারণ হতে পারে। তবে তাপমাত্রার পারদ খুব একটা চড়বে না, যা বড় জমায়েতের জন্য স্বস্তির খবর।
উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গও ভিজবে বৃষ্টিতে। শনিবার পর্যন্ত উত্তরের জেলাগুলোতে ভারী ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও রবিবারের দিকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। তবে মালদা ও দুই দিনাজপুরে বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরির সম্ভাবনা বজায় থাকবে।
প্রস্তুতিতে কোপ? আবহাওয়ার এই পূর্বাভাস মাথায় রেখেই বিজেপির পক্ষ থেকে ব্রিগেডের মঞ্চে বিশেষ ওয়াটারপ্রুফিং ও সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃষ্টির ভ্রুকুটি থাকলেও কর্মী-সমর্থকদের উন্মাদনায় তাতে খুব একটা ভাটা পড়বে না।
রবিবাসরীয় ব্রিগেডে আকাশ কি তবে গেরুয়া শিবিরের জয়োল্লাসে তাল মেলাবে, নাকি বৃষ্টির বাধায় ছন্দপতন ঘটবে? উত্তর এখন কেবল সময়ের হাতে।





