বসিরহাটে বিজেপি কর্মীকে খুনের ছক! ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশের জালে মূল পাণ্ডা, নেপথ্যে কি তবে রাজনীতি?

২০২৬-এর উত্তপ্ত রাজনৈতিক আবহে ফের রক্তাক্ত হলো উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট। প্রকাশ্য দিবালোকে এক বিজেপি কর্মীকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এলাকা। তবে ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ। ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল অভিযুক্তকে জালে তুলল বসিরহাট জেলা পুলিশ।
কী ঘটেছিল সেই অভিশপ্ত দিনে? পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, গতকাল বিকেলে কাজ সেরে বাড়ি ফিরছিলেন ওই বিজেপি কর্মী। অভিযোগ, একটি বাইকে করে আসা দু’জন দুষ্কৃতী খুব কাছ থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। একটি গুলি সরাসরি তাঁর শরীরে লাগে এবং তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এলে আততায়ীরা আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে পালিয়ে যায়। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, বর্তমানে তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক।
তদন্তে পুলিশের ‘অপারেশন ২৪ আওয়ার্স’ ঘটনা জানাজানি হতেই বসিরহাটে শুরু হয় প্রবল রাজনৈতিক উত্তেজনা। দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে বিজেপি কর্মীরা পথ অবরোধ শুরু করেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে তৎপর হয় পুলিশ প্রশাসন। সিসিটিভি ফুটেজ এবং গোপন খবরের ভিত্তিতে বসিরহাটের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় রাতভর তল্লাশি চালায় পুলিশের বিশেষ দল। অবশেষে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি ওয়ান শটার পিস্তল।
রাজনীতি না কি পুরনো শত্রুতা? গ্রেফতারের খবর আসতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। জেলা পুলিশের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, “আমরা মূল অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়েছি। প্রাথমিক জেরায় বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। এটি স্রেফ রাজনৈতিক বিরোধের ফল, নাকি এর পেছনে কোনও পুরনো ব্যক্তিগত শত্রুতা বা ব্যবসায়িক লেনদেন রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
বিজেপির প্রতিক্রিয়া বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, নির্বাচনের পর থেকেই এলাকায় বেছে বেছে তাঁদের কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। এই শুটআউট সেই বৃহত্তর ষড়যন্ত্রেরই অংশ। অন্যদিকে, এই অভিযোগ অস্বীকার করে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই, পুলিশ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করছে।
ধৃতকে আজই আদালতে তুলে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ। মূল অভিযুক্তের সাথে আর কারা জড়িত ছিল এবং এই আগ্নেয়াস্ত্র কোথা থেকে এল, এখন সেই রহস্যভেদের চেষ্টায় তদন্তকারীরা।