ধর্ষণ ও শিশু অপহরণে মেট্রো শহরগুলির মধ্যে শীর্ষে দিল্লি, বলছে NCRB রিপোর্ট
নিজস্ব প্রতিবেদন, দিল্লি: ভারতের রাজধানী দিল্লির মুকুটে যুক্ত হলো এক লজ্জাজনক তকমা। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো (NCRB)-এর সাম্প্রতিক প্রকাশিত রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, দেশের মেট্রো শহরগুলোর মধ্যে নারী ও শিশুদের জন্য সবথেকে বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে দিল্লি। ধর্ষণ থেকে শুরু করে শিশু অপহরণ—প্রায় প্রতিটি অপরাধের নিরিখেই মুম্বই, কলকাতা বা বেঙ্গালুরুকে পিছনে ফেলে শীর্ষস্থান দখল করেছে এই শহর।
নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন ২০২৬-এর এই রিপোর্টে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, দিল্লির নারী নিরাপত্তা এখন খাদের কিনারায়। গত এক বছরে নথিভুক্ত হওয়া ধর্ষণের মামলার সংখ্যা ভারতের অন্যান্য ১৯টি বড় মেট্রো শহরের তুলনায় অনেক বেশি। বিশেষ করে কর্মক্ষেত্র থেকে ফেরার পথে বা নির্জন এলাকায় নারীদের ওপর হামলার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হলেও অপরাধের পরিসংখ্যানে তার কোনও ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে না।
বিপাকে শৈশব: শিশু অপহরণের গড় রিপোর্টের সবথেকে ভয়ঙ্কর অংশটি হলো শিশু সুরক্ষা। এনসিআরবি জানাচ্ছে, মেট্রো শহরগুলোর মধ্যে শিশু অপহরণের ঘটনায় দিল্লি একাই তালিকায় শীর্ষে। প্রতিদিন গড়ে কতজন শিশু নিখোঁজ হচ্ছে, সেই সংখ্যাটি জানলে সাধারণ মানুষের রক্ত হিম হয়ে যাবে। দরিদ্র পরিবারের শিশুদের পাশাপাশি স্কুলপড়ুয়াদের নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার প্রবণতাও ইদানীং বেড়েছে, যা মানবপাচার চক্রের সক্রিয়তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
কেন বাড়ছে অপরাধ? প্রতিরক্ষা ও সমাজতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দিল্লির বিশাল জনসংখ্যা এবং পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলোর সীমান্ত এলাকায় নজরদারির অভাবকে কাজে লাগাচ্ছে অপরাধীরা। সাইবার অপরাধ থেকে শুরু করে শ্লীলতাহানি—প্রতিটি ক্ষেত্রেই রেকর্ড গড়েছে রাজধানী। এমনকি বয়স্ক নাগরিকদের ওপর নির্যাতনের তালিকায়ও দিল্লি প্রথম সারিতে রয়েছে।
অন্যান্য শহরের চিত্র দিল্লির তুলনায় মুম্বই বা কলকাতার মতো শহরগুলোতে অপরাধের হার কিছুটা কম হলেও, সামগ্রিকভাবে দেশজুড়ে নারী ও শিশুদের ওপর অপরাধের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। তবে দিল্লির এই ‘শীর্ষস্থান’ দখল জাতীয় স্তরে প্রশাসনের অস্বস্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং দিল্লি পুলিশ এই পরিস্থিতি সামাল দিতে নতুন করে কী কৌশল নেয়, এখন সেটাই দেখার। তবে সাধারণ মানুষের জন্য এই রিপোর্ট কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং এক ভয়াবহ সতর্কবার্তা।





