শান্ত পাহাড় কি আবার অশান্তির পথে? ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী সময়ে উত্তরবঙ্গের সমতলে রাজনীতির সমীকরণ বদলালেও পাহাড়ে ফের মাথা চাড়া দিচ্ছে পুরোনো সংঘাত। এবার বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু রোহিণীর টোল প্লাজা। বৃহস্পতিবার সকালে আচমকাই জিএনএলএফ (GNLF)-এর কর্মী-সমর্থকরা রোহিণী রোডে টোল আদায় বন্ধ করে দিলে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
আকস্মিক বিক্ষোভ ও টোল বন্ধ সূত্রের খবর, এদিন সকালে জিএনএলএফ-এর কার্শিয়াং মহকুমা কমিটির নেতৃত্বে কয়েকশো কর্মী রোহিণী টোল প্লাজায় জড়ো হন। তাঁদের দাবি, পাহাড়ে যাতায়াতের জন্য সাধারণ মানুষের ওপর এই ‘টোল ট্যাক্স’-এর বোঝা আর চাপিয়ে দেওয়া চলবে না। বিক্ষোভের মুখে টোল প্লাজার কর্মীরা কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হন। এর ফলে শিলিগুড়ি থেকে পাহাড়ে ওঠার অন্যতম প্রধান রাস্তায় দীর্ঘক্ষণ যানবাহন চলাচল বিঘ্নিত হয়।
জিএনএলএফ-এর হুঙ্কার আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট বক্তব্য, রাজ্য প্রশাসনের একাংশ পাহাড়ের মানুষের ওপর অন্যায্য কর চাপাচ্ছে। জিএনএলএফ নেতা জানান, “পাহাড়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চনার শিকার। উন্নয়নের নামে মানুষের পকেট কাটা আমরা সহ্য করব না। যতক্ষণ না এই টোল আদায়ের স্থায়ী সমাধান হচ্ছে, ততক্ষণ রোহিণী দিয়ে কোনও ট্যাক্স আদায় করতে দেওয়া হবে না।”
প্রশাসনের ভূমিকা ও আতঙ্ক হঠাৎ করে টোল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েন পর্যটকরা। অনেকেই মাঝপথে আটকে যান। খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। তবে বিক্ষোভকারীরা অনড় থাকায় পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় প্রশাসনকে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, বিধানসভা ভোটের পর পাহাড়ের রাজনৈতিক জমি ফিরে পেতে আঞ্চলিক দলগুলো ফের মাথা চাড়া দিচ্ছে, যার প্রভাব পড়তে পারে পর্যটন শিল্পে।
উত্তপ্ত রাজনীতি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাহাড়ে এখন ক্ষমতার লড়াই তুঙ্গে। একদিকে অনীত থাপার ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা (BGPM), অন্যদিকে জমি ফিরে পেতে মরিয়া জিএনএলএফ এবং বিজেপি জোট। রোহিণীর এই টোল বন্ধ করার ঘটনা আসলে পাহাড়ে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেওয়ারই এক কৌশল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, এলাকায় মোতায়েন রয়েছে পুলিশ। পরিস্থিতি থমথমে থাকলেও টোল আদায় শুরু করা সম্ভব হয়নি। পাহাড়ের এই নয়া সংঘাত শেষ পর্যন্ত কোন মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।





