রাজ্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনের ঘটনায় একের পর এক হাড়হিম করা তথ্য সামনে আসছে। বুধবার রাত ১০টা ১০ নাগাদ মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া এলাকায় যেভাবে পেশাদার খুনিদের কায়দায় চন্দ্রনাথকে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়েছে, তাতে রীতিমতো স্তম্ভিত তদন্তকারীরা। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, এই হত্যাকাণ্ড কোনো তাৎক্ষণিক আক্রোশ নয়, বরং দীর্ঘদিনের ঠান্ডা মাথার পরিকল্পনার ফসল।
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ দেখেছে, খুনের প্রায় ৬ ঘণ্টা আগে থেকেই এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছিল ঘাতকদের সেই রহস্যময় গাড়িটি। এমনকি চন্দ্রনাথের বাড়ির সামনে রীতিমতো রেইকিও করা হয়েছিল। যখন চন্দ্রনাথ নিজের গাড়িতে ফিরছিলেন, তখন পিছন থেকে বাইকে করে তাঁর ওপর নজর রাখা হচ্ছিল। দোহারিয়ার নির্জন রাস্তায় হঠাৎ একটি গাড়ি এসে চন্দ্রনাথের পথ আটকায়। মুহূর্তের মধ্যে তিন দিক থেকে ঘিরে ধরে চলে এলোপাথাড়ি ১০ রাউন্ড গুলি। ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন শুভেন্দুর এই বিশ্বস্ত সহকর্মী।
তদন্তে সবথেকে বড় চমক এসেছে খুনে ব্যবহৃত গাড়িটিকে নিয়ে। ঘাতকরা যে গাড়িতে এসেছিল, তার নম্বর প্লেটটি ছিল সম্পূর্ণ ভুয়ো। পুলিশি সূত্রে খবর, ওই নম্বরটি শিলিগুড়ির আরটিও-তে উইলিয়াম জোশেফ নামে এক ব্যক্তির নামে নথিভুক্ত। কিন্তু পুলিশ যখন শিলিগুড়িতে উইলিয়ামের সঙ্গে যোগাযোগ করে, তখন জানা যায় তাঁর আসল গাড়িটি তাঁর কাছেই রয়েছে। অর্থাৎ, অপরাধীরা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে গাড়ির মডেল এমনকি নম্বর প্লেট পর্যন্ত হুবহু নকল করেছিল। শুধু তাই নয়, ধরা পড়ার হাত থেকে বাঁচতে গাড়ির বডি থেকে চেসিস নম্বর পর্যন্ত ঘষে তুলে দেওয়া হয়েছিল। ইতিমধ্যেই পুলিশ একটি এসআইটি (SIT) গঠন করে ঘটনার শিকড়ে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নাকি অন্য কোনো গোপন শত্রুতা—সব দিক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।





