মধ্যমগ্রামের দোহরিয়ায় বুধবার রাতের সেই বীভৎস স্মৃতি যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের আকস্মিক প্রয়াণে তাঁর পরিবার এখন অন্ধকারাচ্ছন্ন। বৃহস্পতিবার সকালে চন্দ্রনাথের বাড়িতে পৌঁছে দেখা গেল এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে শোকে পাথর হয়ে গিয়েছেন বৃদ্ধা মা। কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি যে বিস্ফোরক দাবি করলেন, তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
স্বজনহারা মায়ের অভিযোগের আঙুল সরাসরি এলাকার পরিচিত কিছু মুখের দিকে। তিনি বলেন, “আমার ছেলেটা কারোর কোনো ক্ষতি করেনি। ও শুধু ওর কাজ করত। যারা আমার কোল খালি করল, আমি তাদের কঠোরতম শাস্তি চাই।” কাঁদতে কাঁদতেই তিনি রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে এক কাতর প্রার্থনা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “শুভেন্দুবাবু আমার ছেলের বড় দাদার মতো ছিলেন। ওনার কাছে আমার একটাই আর্জি, আমার ছেলের খুনিরা যেন কোনোভাবেই ছাড়া না পায়। ওদের এমন শাস্তি হোক যেন আর কোনো মায়ের কোল এভাবে খালি না হয়।”
চন্দ্রনাথের পরিবারের দাবি, গত কয়েকদিন ধরেই তাঁকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু চন্দ্রনাথ সেকথা বাড়িতে বিশেষ কিছু জানাননি। বুধবারে রাতের সেই অতর্কিত হামলা যে এক সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র, তা এখন পরিবারের অভিযোগেই স্পষ্ট। মৃত যুবকের মা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন, আর জ্ঞান ফিরলেই বিলাপ করে বলছেন, “কারুর ক্ষতি না করেও কেন আমার ছেলেকে চলে যেতে হলো?”
চন্দ্রনাথের এই মৃত্যু কেবল একটি পরিবারের অন্ধকার নয়, বরং এই মুহূর্তে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর এক বড় প্রশ্নচিহ্ন। শুভেন্দু অধিকারী ইতিপূর্বেই এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। এখন দেখার, শোকাতুর মায়ের এই আকুতি বিচার ব্যবস্থার কান পর্যন্ত পৌঁছায় কি না।





