বৃষ্টিতেও কমছে না বিপদ! ঢাকাকে টেক্কা দিতে পারছে না জাকার্তাও, কেন বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর তিলোত্তমা?

বৃহস্পতিবার সকালে ঘুম ভাঙতেই ঢাকাবাসীর জন্য অপেক্ষা করছিল এক চরম দুঃসংবাদ। গত কয়েকদিনের দাবদাহের পর বুধবার সন্ধ্যায় ২৬ মিলিমিটার বৃষ্টিতে শহর কিছুটা শীতল হলেও, বিষাক্ত বাতাস থেকে মুক্তি পায়নি ঢাকা। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার (IQAir)-এর তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে বায়ুদূষণের নিরিখে বিশ্বতালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেছে ঢাকা। ১৭৭ স্কোর নিয়ে ঢাকার বাতাস এখন ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে। তালিকায় ঢাকার ঠিক পরেই রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা (১৫৯)।

সাধারণত ভারী বৃষ্টির পর বাতাসের ধূলিকণা থিতিয়ে যায় এবং বায়ুমান উন্নত হয়। কিন্তু ঢাকার ক্ষেত্রে এই সমীকরণ কাজ করেনি। বুধবার সন্ধ্যায় ৩ ঘণ্টা ধরে হওয়া ভারী বৃষ্টির প্রভাব বৃহস্পতিবার সকালেই উধাও হয়ে গেছে। কেন এমন পরিস্থিতি? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়নকেন্দ্রের (ক্যাপস) চেয়ারম্যান আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছেন।

তাঁর মতে, রাজধানীজুড়ে অন্তত ৩০০টিরও বেশি জায়গায় অনিয়ন্ত্রিতভাবে নির্মাণকাজ চলছে। বৃষ্টির পর খোলা অবস্থায় পড়ে থাকা এই নির্মাণসামগ্রী ও মাটি থেকে কাদা তৈরি হয়। গাড়ি চলাচলের সময় সেই কাদা চাকার সঙ্গে মেইন রোডে ছড়িয়ে পড়ে এবং রোদ ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই তা ধুলোয় পরিণত হয়ে বাতাসে মিশে যায়। ফলে বৃষ্টির সুফল সাময়িক হলেও, রাস্তার অব্যবস্থাপনার কারণে বায়ুদূষণ দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরে আসে।

এর পাশাপাশি ত্রুটিযুক্ত যানবাহনের কালো ধোঁয়া এবং সিটি করপোরেশনের চরম উদাসীনতাকে দায়ী করেছেন বিশেষজ্ঞরা। আহমেদ কামরুজ্জামান বলেন, “নির্মাণসামগ্রী ঢেকে রাখা বা ধুলো নিয়ন্ত্রণে নতুন কোনো প্রকল্পের প্রয়োজন নেই। সিটি করপোরেশনের বিদ্যমান আইনেই এসব পরিষ্কার করার কথা বলা আছে। কিন্তু তাদের বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ নেই।” তিলোত্তমার বাতাসে মিশে থাকা এই বিষ এখন কেবল পরিবেশগত সমস্যা নয়, বরং সাধারণ মানুষের ফুসফুসের জন্য এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy