বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে পরিবর্তনের ঢেউ এবার আছড়ে পড়ল টলিউডের অন্দরে। বুধবার থেকেই উত্তাল স্টুডিও পাড়া। একদিকে ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ান অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়ার (FCTWEI) সভাপতি পদে স্বরূপ বিশ্বাসের থাকা না থাকা নিয়ে ধোঁয়াশা, অন্যদিকে ইম্পার (EIMPA) দপ্তরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রবেশ— সব মিলিয়ে গত কয়েক দশকের মধ্যে টলিউড সবচেয়ে টালমাটাল পরিস্থিতির সাক্ষী থাকছে।
বুধবার একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, ফেডারেশনের সভাপতি হিসেবে স্বরূপ বিশ্বাসের মেয়াদ গত ২০২৫ সালের ডিসেম্বরেই শেষ হয়ে গিয়েছে। ফলে বর্তমানে তিনি নাকি আর ওই পদে আসীন নন। এই খবরে শোরগোল পড়ে গেলে স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বেশ অবাক হন। তিনি স্পষ্ট জানান, “ফেডারেশনের নতুন কমিটি সাধারণত জুন-জুলাই মাসে গঠন হয়। সেই সময় এখনও আসেনি। নিয়ম অনুযায়ী, নতুন কমিটি গঠিত না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান মেম্বাররাই দায়িত্বে থাকেন। পরিস্থিতি জটিল বলেই এমন ভুয়ো তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।” তবে সূত্রের খবর, টলিপাড়ায় দীর্ঘদিনের একাধিপত্যের অবসান ঘটাতে বিরোধীরা এখন আইনি মারপ্যাঁচ খুঁজছেন।
অন্যদিকে, ইম্পার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই এই সংগঠনে আমূল রদবদল এবং জরুরি বৈঠকের দাবি জানিয়ে আসছিলেন সদস্যদের একাংশ। বুধবার বৈঠক ডাকা হলেও মূল দাবিগুলি নিয়ে কোনো আলোচনা না হওয়ায় ক্ষোভ ফেটে পড়ে। শতদীপ সাহা, কৃষ্ণ নারায়ণ দাগার মতো হেভিওয়েট ব্যক্তিত্বরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে যথাযথভাবে মিটিং না ডাকা হলে তাঁরা আইনের দ্বারস্থ হবেন।
অশান্তি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে ইম্পার দপ্তরে হস্তক্ষেপ করতে হয় সিআরপিএফ (CRPF) জওয়ানদের। বৈঠকের মাঝেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে পরিস্থিতি থমথমে হয়ে ওঠে। শোনা যাচ্ছে, বিশৃঙ্খলা রুখতে সেখানে ১৪৪ ধারা জারি হতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, টলিউডের প্রশাসনিক ক্ষমতা দখলের এই লড়াই কেবল শুরু। আগামী কয়েক দিনে টলিপাড়ায় আরও বড় কোনো চমক অপেক্ষা করছে।





