বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার কেন্দ্রীয় সংস্থার চাপে কোণঠাসা ঘাসফুল শিবির। বুধবার সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির তলবে হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ এবং দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুর। কিন্তু শেষ মুহূর্তে দুজনেই হাজিরা এড়িয়ে গেলেন। একদিকে ‘শারীরিক চোট’ আর অন্যদিকে ‘চিঠি’—তৃণমূলের এই দুই হেভিওয়েটের জোড়া চালে আপাতত থমকে গেল ইডির জেরা।
সূত্রের খবর, মঙ্গলবার রাতেই আচমকা বাথরুমে পড়ে গিয়ে চোট পান রথীন ঘোষ। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চোট গুরুতর হওয়ায় আপাতত তাঁর পক্ষে ইডি দপ্তরে হাজিরা দেওয়া সম্ভব নয়। অন্যদিকে, সুজিত বসুও আজ সিজিও কমপ্লেক্সে যাননি। বদলে তিনি ইডিকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। যদিও চিঠিতে ঠিক কী কারণ দর্শানো হয়েছে, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা বজায় রয়েছে।
কেন এই তলব? পৌরসভা নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নাম জড়িয়েছে এই দুই দাপুটে নেতার। ইডির দাবি, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আর্থিক লেনদেনের যে তথ্য় উঠে এসেছে, তার কিনারা করতেই তাঁদের মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা প্রয়োজন। তবে নির্বাচনের ফল ঘোষণার ঠিক পরেই এই কেন্দ্রীয় তৎপরতাকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে দাবি করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব।
চাপ বাড়ছে পরাজিত শিবিরের ওপর: বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর থেকেই দলের কর্মীদের মনোবল তলানিতে। তার ওপর একের পর এক নেতার বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সংস্থার এই সক্রিয়তা তৃণমূলের জন্য বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, রথীন ঘোষ এবং সুজিত বসুর এই অনুপস্থিতি তদন্ত প্রক্রিয়াকে সাময়িকভাবে বিলম্বিত করলেও, ইডি যে খুব সহজে হাল ছাড়বে না, তা স্পষ্ট।
আগামী দিনে ইডি এই দুই নেতার বিরুদ্ধে কী আইনি পদক্ষেপ নেয়, নাকি ফের নতুন করে সমন পাঠায়—সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।





