রাজধানী দিল্লির বাসিন্দাদের জন্য আগামী দিনগুলো অত্যন্ত কঠিন হতে চলেছে। একদিকে যখন গরমের দাপট বাড়ছে, ঠিক তখনই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের জোগানে টান পড়ার এক বড়সড় আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আগামী ২২ মে থেকে ২৪ মে পর্যন্ত টানা তিন দিনের চাকা বনধ বা ট্রাক ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ট্রাক ইউনিয়নগুলো। পণ্যবাহী যানবাহনের ওপর সরকারের চাপিয়ে দেওয়া কিছু কঠোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই এই আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছেন তাঁরা। এর ফলে ফল, সবজি, দুধ, ওষুধ এবং পোশাকের মতো জরুরি সামগ্রীর সরবরাহ শৃঙ্খল বা সাপ্লাই চেন সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
অল ইন্ডিয়া মোটর ট্রান্সপোর্ট কংগ্রেসের (AIMTC) নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ট্রাক ইউনিয়নগুলির এক জরুরি সভায় এই ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ট্রাক চালক ও মালিকদের এই অসন্তোষের পেছনে প্রধানত তিনটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, পণ্যবাহী যানবাহনের ওপর অস্বাভাবিক হারে পরিবেশ ক্ষতিপূরণ চার্জ (ECC) বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা পরিবহন খরচে বিশাল প্রভাব ফেলছে। দ্বিতীয়ত, পরিবেশ রক্ষার নামে আসন্ন বিএস-৪ (BS-IV) মডেলের যানবাহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তৃতীয়ত, ট্রাক মালিকদের দাবি যে, এই ধরনের একের পর এক বিধিনিষেধ তাঁদের জীবনজীবিকাকে খাদের কিনারে ঠেলে দিচ্ছে।
ট্রাক ইউনিয়নগুলির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, সরকার যদি তাঁদের দাবিগুলো অবিলম্বে বিবেচনা না করে, তবে আগামী ২২ মে থেকে দিল্লিতে কোনো পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করবে না। এই অবরোধের প্রভাব সরাসরি পড়বে সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে। পাইকারি বাজারে সবজি বা দুধের জোগান কমে গেলে খুচরো বাজারে দাম আকাশছোঁয়া হতে পারে। একইসাথে জীবনদায়ী ওষুধের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় চিকিৎসকমহলও উদ্বিগ্ন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চললেও, ট্রাক চালকদের এই অনড় মনোভাব দিল্লির জনজীবনকে স্তব্ধ করে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।





