বাংলার ভোট পরবর্তী হিংসার ইতিহাসে ফের যুক্ত হলো এক রক্তাক্ত অধ্যায়। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার রেশ কাটতে না কাটতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল বীরভূমের নানুর। তৃণমূল কর্মীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল বিজেপির বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, মৃত ব্যক্তির নাম শেখ মোজাম্মেল (নাম কাল্পনিক/প্রতীকী)। পরিবারের দাবি, মঙ্গলবার সকালে যখন ভোট পরবর্তী পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে তিনি বের হয়েছিলেন, তখনই একদল দুষ্কৃতী তাঁর ওপর চড়াও হয়। অভিযোগের তির সরাসরি বিজেপির আশ্রিত দুষ্কৃতীদের দিকে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে এলোপাথাড়ি কোপানো হয় বলে অভিযোগ। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
পাল্টা অভিযোগ তুলেছে বিজেপিও। গেরুয়া শিবিরের দাবি, খুনের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং এটি তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল। বরং তৃণমূল কর্মীরাই এলাকায় বোমাবাজি শুরু করেছে বলে তাদের পাল্টা অভিযোগ। বোমাবাজিতে দুই পক্ষের একজন করে মোট দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত এক বিজেপি কর্মীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। তাঁকে জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, পরাজয় নিশ্চিত জেনে বিজেপি এলাকায় সন্ত্রাস কায়েম করতে চাইছে। অন্যদিকে, বিজেপির বক্তব্য, পুলিশকে কাজে লাগিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করছে শাসক দল। নানুরের এই ঘটনায় থমথমে পরিবেশ বজায় রয়েছে। গ্রামজুড়ে পুলিশি টহল চলছে এবং সন্দেহভাজনদের সন্ধানে তল্লাশি শুরু করেছে জেলা পুলিশ। রাজনৈতিক এই সংঘর্ষে বীরভূমের মাটি আবারও লাল হয়ে ওঠায় আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ।





