রাজনীতিতে হাতেখড়ি মাত্র কয়েক মাস আগে, আর প্রথমবারেই জয়! রানিনগরে অসাধ্য সাধন করলেন অধীর-শিষ্য!

রাজনীতির ময়দানে তিনি নেহাতই ‘নবাগত’। আজ থেকে মাত্র আট মাস আগেও তাঁর হাতে ছিল না কোনো রাজনৈতিক দলের পতাকা। কোনোদিন মিছিলে হাঁটা বা স্লোগান দেওয়ার অভিজ্ঞতাও ছিল না। কিন্তু প্রথমবার ভোটের লড়াইয়ে নেমেই বাংলার রাজনীতির সব অঙ্ক ওলটপালট করে দিলেন রানিনগরের কংগ্রেস প্রার্থী জুলফিকর আলি। দাপুটে তৃণমূল প্রার্থী তথা প্রাক্তন সাংসদ পুত্র আব্দুল সৌমিক হোসেনকে ২ হাজার ৭০১ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে এক নয়া ইতিহাসের জন্ম দিলেন তিনি।

মুর্শিদাবাদের রানিনগর কেন্দ্রে জুলফিকরের প্রাপ্ত ভোট ৭৯ হাজার ৪২৩। যেখানে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন এলাকার দীর্ঘদিনের বিধায়ক এবং প্রাক্তন সাংসদ মান্নান হোসেনের পুত্র। রাজনৈতিক মহলের একাংশ যাকে ‘বাহুবলী’ হিসেবেই চিনত। সেই কঠিন দুর্গ জয় করা জুলফিকরের জন্য মোটেও সহজ ছিল না। জয়ের পর আবেগপ্রবণ জুলফিকর জানান, আট মাস আগে পর্যন্ত তিনি রাজনীতির সংস্পর্শে ছিলেন না, তবে অধীর চৌধুরী ছিলেন তাঁর ছোটবেলার আদর্শ।

জুলফিকর আলির এই উত্থান অনেকটা সিনেমার গল্পের মতো। রাজনীতিক হিসেবে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী তাঁকে চিনতেন না বললেই চলে। স্থানীয় নেতৃত্বের সুপারিশে এবং অধীর চৌধুরীর ব্যক্তিগত খোঁজখবর নেওয়ার পর হাইকমান্ড থেকে তাঁর নামে সিলমোহর পড়ে। কিন্তু কেন হঠাৎ রাজনীতিতে আসা? জুলফিকর বলেন, “আমার পরিবার চিরকালই কংগ্রেস সমর্থক। ব্যবসা সূত্রে আমার দোকানটি ছিল কংগ্রেস অফিসের পাশেই। সেখানে বসে দেখতাম তৃণমূলের সীমাহীন অত্যাচার। কংগ্রেস কর্মীদের তোলাবাজি ও মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হতো, এমনকি পার্টি অফিস পর্যন্ত খুলতে দেওয়া হতো না। এই সহ্যসীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার পরেই ঠিক করি, এবার সামনে এসে মোকাবিলা করতে হবে।”

অনেকে ভাবেন স্রোতের সাথে গা ভাসাতে, কিন্তু জুলফিকর ভালোবাসেন স্রোতের বিপরীতে চলতে। তাঁর কথায়, “অন্য দলে যাওয়ার অফার ছিল, কিন্তু আমি সুবিধাবাদী রাজনীতি করতে চাইনি। বাবার আদর্শ আর অধীর চৌধুরীর প্রতি ভালোবাসা থেকেই লড়াকু কংগ্রেসের পতাকা হাতে তুলে নিয়েছিলাম।” রানিনগরের এই ফলাফল প্রমাণ করে দিল, সাধারণ মানুষের নীরব সমর্থন যখন সাথে থাকে, তখন কয়েক দশকের বাহুবলী সাম্রাজ্যও তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। নবনির্বাচিত এই বিধায়কের হাত ধরেই মুর্শিদাবাদের মাটিতে কংগ্রেস ফের এক নতুন দিশা খুঁজে পেল বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy