ভারতীয় বিমান পরিষেবা জগতে কার্যত হাহাকার। গগনচুম্বী জ্বালানির দাম এবং আন্তর্জাতিক আকাশপথের নানা জটিলতায় এবার কোপ পড়ছে ‘মহারাজা’র ডানায়। আকাশছোঁয়া লোকসানের ধাক্কা সামলাতে আগামী জুলাই মাস পর্যন্ত ১০০টি আন্তর্জাতিক উড়ান বাতিল করার মতো চরম সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে এয়ার ইন্ডিয়া।
লোকসানের অঙ্ক আকাশছোঁয়া
পরিসংখ্যান বলছে, গত ৩১ মার্চ ২০২৬-এ শেষ হওয়া অর্থ বছরে এয়ার ইন্ডিয়া প্রায় ২২,০০০ কোটি টাকারও বেশি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। ২০২৫ সালেও যেখানে ক্ষতির পরিমাণ ছিল ২০০০ কোটি টাকা, সেখানে এক বছরে এই বিপুল পরিমাণ লোকসান সংস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতা এবং সংস্থার ওপর বাড়তে থাকা ঋণের বোঝা এই সংকটকে আরও গভীর করেছে।
বন্ধ হচ্ছে ইউরোপ-আমেরিকার রুট?
বিমানের জ্বালানি অর্থাৎ এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (ATF)-এর দাম প্রতি ব্যারেলে প্রায় ৮০ শতাংশ বেড়ে ১৮০ ডলারে পৌঁছেছে। এই আকাশছোঁয়া খরচ সামলাতে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো দীর্ঘ দূরত্বের আন্তর্জাতিক রুটগুলিতে জুন-জুলাই মাস পর্যন্ত বিমান চলাচল কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এমনকি সিঙ্গাপুরের মতো লাভজনক রুটগুলিতেও কাটছাঁট করা হচ্ছে।
কেন এই বিপর্যয়?
সংকটের নেপথ্যে উঠে আসছে মূলত দুটি কারণ:
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তপ্ত আবহে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলে ১২৬ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে।
আকাশপথের নিষেধাজ্ঞা: যুদ্ধের কারণে বিভিন্ন দেশের আকাশপথ বন্ধ থাকায় বিমানকে অনেক দীর্ঘ পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে, যা সরাসরি জ্বালানি খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
মুখ খুললেন সিইও ক্যাম্পবেল উইলসন
এয়ার ইন্ডিয়ার সিইও ক্যাম্পবেল উইলসন এই ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, “বর্তমান ব্যবসায়িক পরিবেশ সংস্থার জন্য একেবারেই অনুকূল নয়। অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ এবং রুট পরিবর্তনের কারণে আন্তর্জাতিক উড়ান চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে।” প্রতিদিন গড়ে ১১০০টি উড়ান পরিচালনা করা এই সংস্থা এখন কার্যত পিছু হটতে বাধ্য হচ্ছে।
ভারতে ঘরোয়া উড়ানের ক্ষেত্রে সরকার তেলের দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করলেও আন্তর্জাতিক রুটের ক্ষেত্রে সেই সুবিধা মিলছে না। ফলে ২২,০০০ কোটি টাকার পাহাড়প্রমাণ লোকসান সামাল দিতে এয়ার ইন্ডিয়ার পরিচালনা পদ্ধতিতে বড় ধরণের রদবদল এখন সময়ের অপেক্ষা। তবে গ্রীষ্মের ছুটির সময় বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করা যাত্রীদের জন্য এই খবর যে বড় দুঃসংবাদ, তা বলাই বাহুল্য।





