দ্বিতীয় দফার ভোট মিটতেই বঙ্গ রাজনীতির পারদ এখন তুঙ্গে। বুধবার রাতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক্সিট পোল বা বুথফেরত সমীক্ষাকে কেন্দ্র করে এবার সরাসরি সংঘাতের পথে হাঁটলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অধিকাংশ সমীক্ষায় রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেওয়া হলেও, সে সবকে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দিতে নারাজ তিনি। উল্টে একে ‘বিজেপির সাজানো চিত্রনাট্য’ বলে তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী।
কর্মীদের মনোবল ভাঙার চেষ্টা? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, সংবাদমাধ্যমের একাংশকে ব্যবহার করে বিজেপি আসলে একটি মনস্তাত্ত্বিক লড়াই লড়ছে। তাঁর দাবি, “তৃণমূল কর্মীদের মনোবল ভেঙে দেওয়াই এই এক্সিট পোলের মূল লক্ষ্য। জনগণের অধিকার কেড়ে নিতে না পেরে এখন মিডিয়ার মাধ্যমে শেষ খেলাটা খেলছে বিজেপি।” শুধু তাই নয়, এই সমীক্ষার সঙ্গে শেয়ার বাজারের যোগসূত্র টেনে তিনি বলেন, “আসল সত্যি সামনে এলে শেয়ার বাজারে ধস নামবে, তাই এখন থেকেই বাজারকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।”
প্রার্থীদের জন্য ‘নাইট গার্ড’ ডিউটি: এক্সিট পোলের ফলাফল দেখে দমে না গিয়ে উল্টে দলের সংগঠনকে আরও কড়া হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন নেত্রী। প্রার্থীদের উদ্দেশে তাঁর স্পষ্ট বার্তা— এখন আর বিশ্রামের সময় নেই। ৪ তারিখ গণনার দিন পর্যন্ত স্ট্রংরুম এবং গণনা কেন্দ্রে কড়া নজরদারি চালাতে হবে। মমতা নির্দেশ দিয়েছেন, “দিনের বেলায় কর্মীদের রাখুন, আর রাতে প্রার্থীরা নিজেরা থেকে পাহারা দিন। প্রয়োজনে আমি নিজেও পাহারা দেব।”
গণনা কেন্দ্রে ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা: মুখ্যমন্ত্রীর আশঙ্কা, গণনা কেন্দ্রে বড়সড় কোনো ‘ষড়যন্ত্র’ হতে পারে। তাই ইভিএম পাহারা দেওয়া এবং গণনার টেবিলে সতর্ক থাকার বিষয়ে এক মুহূর্তের জন্যও ঢিলেমি দিতে রাজি নন তিনি। তাঁর এই কড়া মেজাজ বুঝিয়ে দিচ্ছে, এক্সিট পোল যাই বলুক, ময়দানি লড়াইয়ে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়বে না ঘাসফুল শিবির।
অন্যদিকে, বিরোধীরা মমতার এই আক্রমণকে ‘পরাজয়ের ভয়’ বলে কটাক্ষ করেছে। তাদের মতে, এক্সিট পোল হলো জনমতের প্রতিফলন, যা দেখে তৃণমূল এখন থেকেই আতঙ্কিত। এখন নজর ৪ মে-র দিকে, সেদিন ইভিএম বক্স খোলার পরই স্পষ্ট হবে কার দাবি ধোপে টেকে।





