রাজ্যে হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচন শেষ। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। আগামী সোমবার ইভিএম খুললেই জানা যাবে বাংলার মসনদে কে বসছেন। তবে ফল প্রকাশের ৪৮ ঘণ্টা আগেই তৃণমূল শিবিরের অন্দরে চরম সতর্কবার্তা পৌঁছে দিলেন খোদ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর নিদান— “আমি সাংবাদিক সম্মেলন না করা পর্যন্ত কাউন্টিং সেন্টার ছাড়া চলবে না।”
বৃহস্পতিবার বাংলার মানুষের উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুথফেরত সমীক্ষাকে কার্যত নস্যাৎ করে দিয়ে জয়ের ব্যাপারে ১০০ শতাংশ আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, “২০২৬-এর নির্বাচনে তৃণমূল ২২৬-এর বেশি আসন নিয়ে ফের ক্ষমতায় ফিরছে।” কিন্তু জয়ের এই প্রবল সম্ভাবনার মাঝেও বিরোধীদের ‘চক্রান্ত’ নিয়ে কর্মীদের সাবধান করে দিয়েছেন তিনি।
গণনা কেন্দ্রে কড়া নজরদারির নির্দেশ: তৃণমূল সুপ্রিমোর আশঙ্কা, ভোট গণনার সময় কারচুপি হতে পারে। তিনি বলেন, “কাউন্টিং সেন্টার থেকে গণনা টেবিলে যাওয়ার সময় মেশিন বদলে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে ওরা। এমনকি টেবিলের গণনা কম্পিউটারে তোলার সময় আমাদের ফল ওদের নামে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে।” কর্মীদের উদ্দেশ্যে তাঁর কড়া নির্দেশ, দিনের বেলা কর্মীরা পাহারা দিলেও রাতে প্রার্থীদের নিজেদের স্ট্রংরুম আগলাতে হবে। দলনেত্রীর স্পষ্ট কথা, “দরকার হলে আমি নিজে গিয়ে পাহারা দেব।”
কেন্দ্রীয় বাহিনী ও বিজেপিকে তোপ: নির্বাচন চলাকালীন কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা এবং বিজেপি নেতাদের ‘অত্যাচার’ নিয়ে সরব হয়েছেন মমতা। তিনি অভিযোগ করেন, “মোদি-শাহের নির্দেশে ভাটপাড়া, নোয়াপাড়ার মতো এলাকায় সারারাত রেড করা হয়েছে। নারী ও শিশুদের ওপর অত্যাচার চালানো হয়েছে।” এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও যারা ভোট দিয়েছেন, সেই ভোটার ও তৃণমূল কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি।
রি-পোল নিয়ে জল্পনা: এদিকে ভোট পরবর্তী অশান্তি নিয়ে মুখ খুলেছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল। তিনি জানিয়েছেন, যেখানে যেখানে গণ্ডগোল হয়েছে, সেখানে স্ক্রুটিনি চলছে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট বুথগুলিতে পুনর্নির্বাচন বা রি-পোলের নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।
২৯৪ আসনের এই লড়াইয়ে ম্যাজিক ফিগার ১৪৮। তৃণমূলের দাবি তারা অনায়াসেই সেই গণ্ডি পার করে দ্বিশতরান হাঁকাবে। এখন দেখার, ৪ তারিখের অন্তিম লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসে। সংবাদ সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী ‘ধামাকা’ দেন, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।





