মাঝপথেই কি বদলে যাচ্ছে কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী? জল্পনার আগুনে জল ঢেলে খোদ খাড়গে শোনালেন ‘ভাগ্যের লিখন’

কর্নাটকের বিধানসভায় কি তবে পরিবর্তনের বাদ্যি বেজে গেল? দীর্ঘ দিন ধরে চলতে থাকা মুখ্যমন্ত্রী বদলের জল্পনায় এবার মুখ খুললেন খোদ কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, আপাতত কর্নাটকে নেতৃত্বের পদে কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। তবে খাড়গের কথাতেই লুকিয়ে রয়েছে এক রহস্যময় ইঙ্গিত— ‘শীঘ্রই’ মিটবে সব বিবাদ।

ক্ষমতার আড়াই বছর ও ‘পাওয়ার শেয়ারিং’ বিতর্ক

২০২৩ সালে কর্নাটকের মসনদে বসার সময় থেকেই মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া এবং উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমারের মধ্যে একটি ‘ক্ষমতা-বণ্টন’ বা পাওয়ার-শেয়ারিং চুক্তির কথা শোনা যায়। ২০২৫ সালের নভেম্বরে বর্তমান সরকার তাদের মেয়াদের অর্ধেক সময় পার করতেই সেই জল্পনার আগুনে ঘি পড়েছে। শিবকুমার পন্থীরা চাইছেন, মেয়াদের বাকি অর্ধেক সময় তাঁদের নেতাকে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসানো হোক। এই অভ্যন্তরীণ কোন্দলের মধ্যেই খাড়গের মন্তব্য, “এখানে ইতিমধ্যেই একজন মুখ্যমন্ত্রী রয়েছেন।”

সিদ্ধান্ত নেবেন সোনিয়া-রাহুল

নেতৃত্ব বদল নিয়ে তাড়াহুড়ো করতে নারাজ হাইকম্যান্ড। খাড়গে বলেন, “যদি সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী এবং আমি—আমরা তিনজন মিলে পরিবর্তনের কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাই, তবে তার জন্য সময়ের প্রয়োজন। আসুন, আমরা অপেক্ষা করি এবং দেখি।” তাঁর এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, কর্নাটকের রাজনীতিতে বড় কোনো ওলটপালট ঘটলে তা হবে অত্যন্ত পরিকল্পিত।

“সবই ভাগ্যের লিখন”: নিজের নাম নিয়ে কী বললেন খাড়গে?

কর্নাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জি পরমেশ্বরা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, খোদ মল্লিকার্জুন খাড়গেকেই হয়তো পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখা যেতে পারে। এই জল্পনাকে অবলীলায় উড়িয়ে দিয়ে খাড়গে বলেন, “অনেকেই বলছেন আমি মুখ্যমন্ত্রী হলে ভালো হবে। কিন্তু আমার ভাগ্য এবং দলের প্রতি সেবা বিচার করে সোনিয়া গান্ধীই সিদ্ধান্ত নেন। আপাতত সেই প্রশ্নই ওঠে না।”

কুমারস্বামীর ‘৪০ বিধায়ক’ তত্ত্ব ও কংগ্রেসের অবস্থান

অন্যদিকে, জেডি(এস) নেতা এইচডি কুমারস্বামীর একটি দাবিতে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তাঁর দাবি, কংগ্রেসের প্রায় ৪০ জন বিধায়ক দিল্লিতে দরবার করার জন্য টিকিট কেটেছেন। যদিও খাড়গে এই দাবিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ। তিনি সাফ জানিয়েছেন, দলের অভ্যন্তরীণ বিষয় কংগ্রেস নিজেই সুরাহা করবে এবং তা হবে যথাযোগ্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।

দক্ষিণের এই গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যের রাজনীতি এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ। আপাতত ‘ধীরে চলো’ নীতি নিলেও, খাড়গের “দ্রুত সমাধান” করার আশ্বাসই বলে দিচ্ছে, পর্দার আড়ালে বড় কোনো সমঝোতার প্রস্তুতি চলছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy