৪ মে বাংলার ভাগ্যনির্ধারণ। আর সেই মেগা কাউন্টিংয়ের দিন গণনাকেন্দ্রে কোনো রকম বেনিয়ম বা অনধিকার প্রবেশ রুখতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। এবার আর শুধু কার্ড দেখালেই হবে না, গণনাকেন্দ্রের শেষ দরজায় প্রবেশের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে কিউআর কোড (QR Code) যুক্ত বিশেষ স্মার্ট পরিচয়পত্র। ডিজিটাল এই ‘ছাঁকুনি’ না পেরিয়ে এবার কাউন্টিং হলে ঢোকা কার্যত অসম্ভব।
হাইটেক নিরাপত্তায় মুড়ছে স্ট্রংরুম
নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নিশ্ছিদ্র করতে এবার ত্রিস্তরীয় রক্ষাকবচ তৈরি করা হয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরে রিটার্নিং অফিসারের দেওয়া পরিচয়পত্র হাতে কলমে পরীক্ষা করা হলেও, গণনাকক্ষের ঠিক বাইরের তৃতীয় স্তরে বসানো হচ্ছে কিউআর কোড স্ক্যানার। সেখানে ডিজিটাল স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত না হলে কেউ ভিতরে প্রবেশ করতে পারবেন না।
কাদের জন্য এই নতুন ‘স্মার্ট কার্ড’?
এই ডিজিটাল কড়াকড়ি থাকছে সবার জন্যই। রিটার্নিং অফিসার (RO), গণনার কাজে নিযুক্ত সরকারি কর্মী, মাইক্রো-অবজারভার থেকে শুরু করে প্রার্থী এবং তাঁদের এজেন্ট—সবার জন্যই কিউআর কোড যুক্ত এই বিশেষ ফটো আইডেন্টিটি কার্ড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। জাল পরিচয়পত্র ব্যবহার করে গণনাকেন্দ্রে ঢুকে বিশৃঙ্খলা তৈরির সম্ভাবনা রুখতেই কমিশনের এই মাস্টারপ্ল্যান। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও অসম, কেরালা, তামিলনাড়ু এবং পুদুচেরির বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার দিন এই প্রযুক্তি কার্যকর করা হবে।
রি-পোল নিয়ে কী জানালেন সিইও?
ভোট পরবর্তী পরিস্থিতি ও অশান্তির অভিযোগ নিয়ে বড় আপডেট দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ কুমার আগরওয়াল। দ্বিতীয় দফার ভোটে যেখানে যেখানে অশান্তির খবর মিলেছে, সেখানে পদক্ষেপ করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। রি-পোল বা পুনর্নির্বাচন প্রসঙ্গে সিইও জানান, বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে পুঙ্খানুপুঙ্খ স্ক্রুটিনি বা খতিয়ে দেখার কাজ চলছে। রাজনৈতিক দলের প্রার্থী এবং ফিল্ড লেভেল অফিসারদের উপস্থিতিতেই এই পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
ব্যক্তিগত তদারকিতে সিইও
গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ফাঁক রাখতে চাইছেন না মনোজ কুমার আগরওয়াল। তিনি নিজেই জানিয়েছেন, সুরক্ষাব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে ব্যক্তিগতভাবে কয়েকটি গণনাকেন্দ্র পরিদর্শনে যাবেন তিনি। পাশাপাশি ওয়েবকাস্টিং ক্যামেরা এবং বিদ্যুৎ পরিষেবা সচল রাখতে বিদ্যুৎ দপ্তরের সঙ্গেও সমন্বয় বজায় রাখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে ৪ মে-র গণনা যাতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এবং নিরাপদ হয়, তার জন্য সর্বশক্তি দিয়ে ময়দানে নেমেছে কমিশন। এখন দেখার, এই হাইটেক ব্যবস্থা গণনার দিন কতটা সুফল দেয়।





