বাংলায় দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে যখন রেকর্ড ভোটদানের খবর আসছে, ঠিক তখনই দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় থেকে সামনে এল এক ভয়াবহ চিত্র। ভাঙড়ের তৃণমূল প্রার্থী তথা দাপুটে নেতা সওকত মোল্লা অভিযোগ করেছেন, ভোটের আগের রাত থেকে শুরু করে আজ সারাদিন ভাঙড়ের বিভিন্ন এলাকায় চলেছে ব্যাপক তাণ্ডব। তাঁর দাবি, আতঙ্কে সাধারণ মানুষ গত রাতে নিজের বাড়িতে শান্তিতে ঘুমাতে পর্যন্ত পারেননি।
সওকতের গুরুতর অভিযোগ: বুধবার বিকেলে সংবাদমাধ্যমের সামনে সওকত মোল্লা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ মেজাজে দাবি করেন, বিরোধী দলগুলোর আশ্রিত দুষ্কৃতীরা সাধারণ ভোটারদের ভয় দেখাতে রাতভর গ্রামগুলোতে দাপিয়ে বেড়িয়েছে। তিনি বলেন, “সারা রাত ধরে তাণ্ডব চলেছে। আমাদের কর্মীদের মারধর করা হয়েছে এবং ভোটারদের হুমকি দেওয়া হয়েছে যাতে তাঁরা বুথমুখী না হন। মানুষের চোখে-মুখে আতঙ্ক ছিল স্পষ্ট।”
নিশানায় কারা? সওকত মোল্লা সরাসরি নাম না করলেও তাঁর তীরের নিশানা যে আইএসএফ (ISF) এবং বিরোধী শিবিরের দিকে, তা বুঝতে অসুবিধা হয় না। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতেই এই তাণ্ডব চালানো হয়েছে এবং পুলিশ বহু জায়গায় নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। সওকতের প্রশ্ন, “যদি মানুষ নিজের বাড়িতেই সুরক্ষিত না থাকে, তবে এই বাহিনীর কাজ কী?”
ভাঙড়ের চিরচেনা ছবি: বাংলার রাজনীতিতে ভাঙড় মানেই উত্তাপ। এদিনের ভোটেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সকাল থেকেই বিভিন্ন বুথে বিক্ষিপ্ত অশান্তি, বোমাবাজি এবং এজেন্টদের বসতে না দেওয়ার অভিযোগ আসছিল। তবে সওকত মোল্লার এই ‘রাতভর তাণ্ডবে’র অভিযোগ নির্বাচনী উত্তাপকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
পাল্টা বিরোধীদের দাবি: অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে এই অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, হারের ভয়ে এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়াকড়িতে বুথ দখল করতে না পেরে এখন সওকত মোল্লা মিথ্যে অভিযোগ তুলে সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা করছেন।
ভাঙড়ের এই পরিস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। রেকর্ড ভোটদানের দিনে ভাঙড়ের এই অশান্তির মেঘ শেষ পর্যন্ত কার দিকে ঝুঁকে পড়ে, সেটাই এখন দেখার।





