২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় পশ্চিমবঙ্গ শুধু রেকর্ড গড়েনি, বরং এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে কলকাতাকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের মন্তব্য এখন আলোচনার তুঙ্গে। কমিশনের মতে, স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত কলকাতায় এত সুশৃঙ্খল এবং বিপুল হারে ভোটদানের নজির আগে কখনও দেখা যায়নি। বুধবার রাতে সংবাদ সম্মেলনে কমিশন সাফ জানিয়েছে, “কলকাতায় আজ ঐতিহাসিক ভোট হয়েছে।”
কমিশনের নজরে কলকাতার ভোট: এদিন সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নামতেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে, তিলোত্তমার মানুষ ভোট উৎসবকে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে গিয়েছেন। নির্বাচনী আধিকারিকরা জানিয়েছেন, সাধারণত মহানগরের ভোটে যে উদাসীনতা বা কম ভোটদানের হার দেখা যায়, এবার তা পুরোপুরি উধাও।
রেকর্ড হার: কলকাতার আসনগুলোতে ভোটদানের শতাংশ গত কয়েক দশকের রেকর্ড ছাড়িয়ে গিয়েছে।
শান্তিপূর্ণ পরিবেশ: কোনো বড়সড় অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই এত বিপুল সংখ্যক মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছেন, যা কমিশনের কাছে এক বড় সাফল্য।
কমিশন আর যা জানাল: কমিশন কেবল ভোটদানের হারের প্রশংসাই করেনি, বরং আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছে: ১. প্রবীণ ও তরুণদের লড়াই: শতায়ু বৃদ্ধ থেকে শুরু করে প্রথমবার ভোট দিতে আসা তরুণ— সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই এই নির্বাচনকে ঐতিহাসিক করেছে। ২. নিরাপত্তার সাফল্য: কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং রাজ্য পুলিশের সমন্বয়ে মানুষ নির্ভয়ে বুথে আসতে পেরেছেন বলেই এই হার সম্ভব হয়েছে। ৩. প্রযুক্তির ব্যবহার: SIR এবং ডিজিটাল মনিটরিংয়ের ফলে ভোটারদের লাইন নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুত ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা গিয়েছে।
রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন: কলকাতায় এই ‘ঐতিহাসিক’ ভোটদানের হার দেখে কপালে চিন্তার ভাঁজ শাসক ও বিরোধী— উভয় শিবিরেরই। বিশ্লেষকদের মতে, কলকাতার মানুষ যখন রেকর্ড সংখ্যায় ভোট দেন, তখন তার পেছনে কোনো গভীর রাজনৈতিক সমীকরণ কাজ করে। এই বিপুল ভোট কি শাসক দলের উন্নয়নকে সমর্থন দিচ্ছে, নাকি বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত?
কমিশনের এই শংসাপত্র বাংলার গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তিকে জাতীয় স্তরে আরও উজ্জ্বল করল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তবে ৪ঠা মে ইভিএম খোলার পরই বোঝা যাবে, কলকাতার এই ‘ঐতিহাসিক’ ভোট কাদের ভাগ্য বদলে দিল।





