ওপেক ছাড়ল আমিরশাহী! বিশ্ব তেলের বাজারে মহাপ্রলয়? রকি ভাই থেকে রয়্যাল ফ্যামিলি— সবাই তাজ্জব!

আন্তর্জাতিক তেল বাজারে বড়সড় ধাক্কা! ওপেকের (OPEC) কয়েক দশকের দীর্ঘ বন্ধুত্বে ইতি টানল সংযুক্ত আরব আমিরশাহী। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল, ২০২৬) এক ঐতিহাসিক ঘোষণায় আমিরশাহী জানিয়েছে, তারা তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ‘ওপেক’ এবং ‘ওপেক প্লাস’ থেকে পাকাপাকিভাবে বেরিয়ে যাচ্ছে। আগামী ১ মে থেকেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে চলেছে।

কেন এই হঠাৎ প্রস্থান? ৩টি বড় কারণ:

১. উৎপাদন বাড়ানোর জেদ: ওপেকের নিয়ম অনুযায়ী, সদস্য দেশগুলো চাইলেই ইচ্ছেমতো তেল উৎপাদন করতে পারে না। কিন্তু আমিরশাহী গত কয়েক বছরে তাদের তেল উত্তোলনের ক্ষমতা ব্যাপক বাড়িয়েছে। তারা চাইছে আরও বেশি তেল বাজারে বিক্রি করে দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে, যা ওপেকের সদস্য থাকাকালীন সম্ভব হচ্ছিল না।

২. সৌদি আরবের সঙ্গে মন কষাকষি: তেলের বাজারে দীর্ঘ দিন ধরেই ছড়ি ঘুরিয়ে আসছে সৌদি আরব। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তেলের কোটা এবং উৎপাদন নীতি নিয়ে সৌদির সাথে আমিরশাহীর বিরোধ চরমে পৌঁছেছিল। নিজের দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতেই এই ‘বড় ভাই’ সুলভ আচরণ থেকে মুক্তি চাইল আবুধাবি।

৩. ইরান যুদ্ধ ও ভূ-রাজনীতি: সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালীর অস্থিরতায় আমিরশাহী নিজেকে নতুনভাবে সাজাতে চাইছে। ওপেকের তেল নীতি অনেক সময় আমিরশাহীর জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছিল। তাই স্বাধীনভাবে বিদেশের সাথে তেলের চুক্তি করতে এই সিদ্ধান্ত।

বাজারে কী প্রভাব পড়বে? বিশেষজ্ঞদের মতে, আমিরশাহী বেরিয়ে যাওয়ায় ওপেক অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়বে। আমিরশাহী যদি এখন থেকে বাজারে বেশি পরিমাণে তেল ছাড়ে, তবে তেলের দাম বিশ্ববাজারে কমতেও পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষেত্রে এটি তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

আমিরশাহীর বক্তব্য: দেশটির জ্বালানি মন্ত্রী সুহেল আল মাজরুই জানিয়েছেন, “আমরা ওপেকের দীর্ঘদিনের অবদানের কথা স্বীকার করি, কিন্তু এখন সময় এসেছে দেশের জাতীয় স্বার্থ এবং বিনিয়োগকারীদের কথা ভাবার। আমরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে চাই।”

২০১৯ সালে কাতার ওপেক ছেড়েছিল, কিন্তু আমিরশাহীর মতো এত বড় তেল উৎপাদনকারী দেশের বেরিয়ে যাওয়া ওপেকের কফিনে শেষ পেরেক কি না, তা নিয়ে এখন তোলপাড় শুরু হয়েছে গোটা বিশ্বে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy