কেন্দ্রের উচ্চাভিলাষী ‘গ্রেট নিকোবর প্রকল্প’ (Great Nicobar Project) নিয়ে এবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও তাঁর সরকারকে আক্রমণ শানালেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ সফরে গিয়ে এই প্রকল্পটিকে প্রকৃতির ওপর “ধ্বংসলীলা” এবং আদিবাসীদের সাথে “প্রতারণা” বলে অভিহিত করেছেন তিনি। বুধবার নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে কেন্দ্রকে কার্যত ‘অপরাধী’র কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন কংগ্রেসের এই শীর্ষ নেতা।
কেন ক্ষুব্ধ রাহুল গান্ধী? বর্তমানে আন্দামানে স্বল্পমেয়াদী সফরে রয়েছেন রাহুল। দ্বীপপুঞ্জের প্রাকৃতিক পরিবেশ সচক্ষে দেখে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, প্রায় ১৬০ বর্গকিলোমিটার রেনফরেস্ট বা প্রাচীন বনভূমি এই প্রকল্পের কারণে চিরতরে হারিয়ে যাবে। রাহুলের দাবি, “প্রতিটি গাছে জড়িয়ে রয়েছে বহু বছরের স্মৃতি। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে যারা এই বনভূমি রক্ষা করেছেন, আজ তাঁদের কাছ থেকেই সম্পদ কেড়ে নেওয়ার নীল নকশা করা হয়েছে।”
প্রকল্পের লক্ষ্য ও বিতর্ক: কেন্দ্রের এই মেগা প্রজেক্টের বাজেট ধরা হয়েছে প্রায় ৮১,০০০ থেকে ৯২,০০০ কোটি টাকা। এখানে কী কী তৈরি হবে?
একটি আন্তর্জাতিক ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর।
নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।
বিশাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও একটি পরিকল্পিত আধুনিক শহর।
সরকারের দাবি, মালাক্কা প্রণালীর কাছে এই প্রকল্প ভারতকে কৌশলগত ও বাণিজ্যিক দিক থেকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। কিন্তু রাহুল গান্ধীর মতে, উন্নয়নের এই চাকায় পিষ্ট হবে স্থানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার এবং বাস্তুতন্ত্র।
কংগ্রেসের ধারাবাহিক বিরোধিতা: শুধু রাহুল নন, এর আগে কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীও এই প্রকল্পের কড়া সমালোচনা করেছিলেন। জাতীয় গ্রিন ট্রাইব্যুনাল (NGT) এই প্রকল্পে সবুজ সংকেত দিলেও, পরিবেশবিদ এবং বিরোধীদের দাবি— এর ফলে লক্ষ লক্ষ গাছ কাটা পড়বে যা পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করবে। রাহুল গান্ধী স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, সরকার যদি এই প্রকল্প কার্যকর করে তবে তা হবে এক “ভয়াবহ অপরাধ”।
নির্বাচনী উত্তাপের মাঝে রাহুলের এই আন্দামান সফর এবং কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া জাতীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।





