“আমি রাজা হলে আপনার ইন্টারভিউ নিতাম না”! চার্লসের পাশে দাঁড়িয়ে কেন এমন বিস্ফোরক ট্রাম্প?

কূটনৈতিক সৌজন্য ছাপিয়ে এখন শিরোনামে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং কিং চার্লসের সাক্ষাৎ। তবে আলোচনার কেন্দ্রে তাঁদের বৈঠক নয়, বরং হোয়াইট হাউস থেকে পোস্ট করা একটি বিতর্কিত ছবি ও তার ক্যাপশন। দুই নেতার হাসিমুখের ছবির নিচে লেখা হয়েছে— “দুই রাজা” (Two Kings)। আর এই একটি বাক্যই আমেরিকা ও ব্রিটেনের রাজনৈতিক মহলে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে।

বিতর্কের মূলে কী? আমেরিকা এমন একটি দেশ যা ১৮ শতকে ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীন হয়েছিল। সেখানে একজন গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে ব্রিটেনের বংশগত রাজার সাথে তুলনা করাটা কি আদৌ যুক্তিযুক্ত? ঐতিহাসিক ও বিশ্লেষকদের মতে, এই ক্যাপশনটি আমেরিকার গণতান্ত্রিক ভিত্তিকেই উপহাস করার সমান।

ট্রাম্পের ‘রাজকীয়’ ইমেজের নেপথ্যে: এই প্রথম নয়, এর আগেও ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাজকীয় পোশাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-র তৈরি ছবিতে দেখা গিয়েছিল। সমালোচকদের দাবি, ট্রাম্প নিজেকে একজন প্রেসিডেন্টের চেয়ে বেশি ‘একনায়ক’ বা ‘রাজা’ হিসেবে তুলে ধরতে পছন্দ করেন।

  • ডেমোক্র্যাটদের তোপ: নিউ ইয়র্কের প্রতিনিধি জো মোরেলে সাফ জানিয়েছেন, “আমেরিকার সার্বভৌমত্ব কোনো একক ব্যক্তির হাতে নয়, বরং জনগণের হাতে।”

  • ট্রাম্পের পালটা চাল: তীব্র সমালোচনার মুখে সিবিএস-এর ‘৬০ মিনিট’ অনুষ্ঠানে কৌতুক মিশিয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমি মোটেও রাজা নই। রাজা হলে কি আর আপনার সাথে বসে ইন্টারভিউ দিতাম?”

অ্যাংলো-আমেরিকান বিপ্লবের বার্তা: যদিও ট্রাম্প এই সাক্ষাৎকে ‘মানব স্বাধীনতার অ্যাংলো-আমেরিকান বিপ্লব’ হিসেবে বর্ণনা করে ড্যামেজ কন্ট্রোল করার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু ‘দুই রাজা’ তকমাটি তাঁর সমর্থকদের যতটা উৎসাহিত করেছে, বিরোধীদের ততটাই আতঙ্কিত করে তুলেছে।

যুদ্ধের আবহে নতুন সমীকরণ: বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার এই সময়ে ট্রাম্পের এমন ‘পাওয়ারফুল’ ইমেজ তৈরির চেষ্টা আসলে তাঁর রাজনৈতিক কৌশলেরই অংশ। তবে একজন সাংবিধানিক প্রধান (কিং চার্লস) এবং একজন নির্বাহী প্রধানের (ট্রাম্প) এই মেলবন্ধন প্রতীকীভাবে কতটা শক্তিশালী বা বিতর্কিত, তা নিয়ে বিতর্ক আপাতত থামছে না।