২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় তথা শেষ দফায় আক্ষরিক অর্থেই ‘গণতন্ত্রের উৎসব’ দেখল বাংলা। প্রথম দফার পাহাড়-প্রমাণ রেকর্ডকেও ছাপিয়ে গিয়ে এদিন ভোটদানের হার পৌঁছাল এক অনন্য উচ্চতায়। বিকেল ৫টা পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে গড়ে ৯০ শতাংশেরও বেশি ভোট পড়েছে, যা পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ইতিহাসে সর্বকালীন রেকর্ড বলে মনে করা হচ্ছে।
পরিসংখ্যানে বড় চমক: নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, এবার ভোটার তালিকা থেকে মৃত ও ভুয়ো নাম বাদ দেওয়ায় ২০২১-এর তুলনায় প্রায় ৩৪ লক্ষ ভোটার কম ছিল। কিন্তু ভোটদানের হার সেই অভাবকে ঢেকে দিয়েছে। গতবারের তুলনায় দুই দফা মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত প্রায় ২৩ লক্ষ বেশি ভোট জমা পড়েছে ইভিএমে। ভোট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভোটার কমলেও ভোট বৃদ্ধি পাওয়ার এই ট্রেন্ড কোনো এক পক্ষের পক্ষে বড়সড় ‘ওয়েভ’ বা ঢেউয়ের ইঙ্গিত হতে পারে।
জেলাভিত্তিক ভোটের চিত্র (বিকেল ৫টা পর্যন্ত):
পূর্ব বর্ধমান: ৯২% (সর্বোচ্চ মেমারিতে ৯৩%)
হুগলি ও নদিয়া: ৯০%
উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ৯০%
কলকাতা: কলকাতা উত্তরে ৮৮% এবং দক্ষিণে ৮৬%।
হাইপ্রোফাইল কেন্দ্র: ভবানীপুর ও বালিগঞ্জে ৮৬% এবং মানিকতলায় ৮৯% ভোট পড়েছে।
হাওড়ায় ছড়াল উত্তেজনা, বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ: ভোটের উৎসবের মধ্যেই হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে ঘটে গেল এক বিষাদময় ঘটনা। বলরামপুর বুথে ভোট দিয়ে বেরোনোর পরই এক বৃদ্ধ ভোটারের মৃত্যু হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের ধাক্কাতেই ওই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। যদিও বাহিনীর তরফে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
শেষ মুহূর্তের টানটান উত্তেজনা: বিকেল ৫টা বেজে গেলেও এখনও বহু বুথের বাইরে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ছে। ফলে অন্তিম শতাংশ আরও বাড়তে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। নির্বাচন শেষ হতেই এখন সবার নজর এগজিট পোল বা জনমত সমীক্ষার দিকে। ৪ মে-র চূড়ান্ত ফলাফলের আগে এই রেকর্ড ভোটদান কোন দলের কপালে চিন্তার ভাঁজ বাড়াল, আর কার মুখে হাসি ফোটাল— সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।





