বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে যেখানে দেশের হাজার হাজার তরুণ সরকারি বা বেসরকারি চাকরির ইঁদুর দৌড়ে ক্লান্ত হয়ে বছরের পর বছর সময় নষ্ট করছেন, সেখানে বিহারের পূর্ণিয়ার রবি শঙ্কর এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। অভাবের তাড়না আর একের পর এক নামী সংস্থা থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়েও ভেঙে পড়েননি এই ইন্টারমিডিয়েট পাশ যুবক। অন্যের অধীনে দাসত্ব করার বদলে তিনি বেছে নিয়েছেন উদ্যোক্তা হওয়ার কঠিন কিন্তু সম্মানজনক পথ।
১০ হাজার টাকার স্বপ্ন যখন আজ লাখ টাকার ব্যবসা
রবির এই যাত্রাপথ মোটেও মসৃণ ছিল না। পকেটে টাকা নেই, নেই কোনো বড় ডিগ্রি। স্রেফ আত্মীয়দের কাছ থেকে ১০,০০০ টাকা ঋণ নিয়ে শুরু করেছিলেন একটি ছোট্ট ফুড কার্ট। আজ সেই সামান্য পুঁজিতেই ডানা মেলেছে তাঁর ব্যবসা। বর্তমানে পূর্ণিয়া শহরের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে— সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গেট, গুলাব্বাগ এবং বিলোরিতে রবির স্টলগুলো মানুষের অত্যন্ত প্রিয় হয়ে উঠেছে।
মাত্র ৪০ টাকায় অমৃতের স্বাদ
রবির সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হলো খাবারের গুণমান ও সস্তা দাম। মাত্র ৪০ টাকায় তিনি রাজমা-ভাত, মটর পনির এবং কড়ি-ভাতের খাঁটি ঘরোয়া স্বাদ পরিবেশন করেন। পাতে উপরি পাওনা হিসেবে থাকে একটি গরম নরম গোলাপ জামুন। এই স্বাদ আর আতিথেয়তার টানেই প্রতিদিন রবির স্টলে ভিড় জমান শত শত মানুষ।
তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা
রবি শঙ্কর আজ আর একা নন। তাঁর এই ছোট স্টার্টআপে এখন আরও পাঁচজন বেকার যুবকের কর্মসংস্থান হয়েছে। একটি মাত্র স্টল থেকেই প্রতিদিন প্রায় ৫,০০০ টাকা মুনাফা করছেন তিনি। রবির এই লড়াই প্রমাণ করে দেয় যে, বড় কিছু করার জন্য সবসময় বড় ডিগ্রি বা লাখ লাখ টাকার প্রয়োজন হয় না; সততা, কঠোর পরিশ্রম আর ঝুঁকি নেওয়ার সাহস থাকলে রাস্তার ধারের ফুড কার্ট থেকেও সাফল্যের শিখরে পৌঁছানো সম্ভব।





