ইরান ও আমেরিকার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের রণদামামা থামার কোনো লক্ষণ নেই। উল্টে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তেহরানের দেওয়া সাম্প্রতিকতম প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার হোয়াইট হাউসের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের দেওয়া শর্তসাপেক্ষ প্রস্তাবে তিনি কোনোমতেই রাজি নন।
কী ছিল ইরানের প্রস্তাবে?
সূত্রের খবর, ইরান প্রস্তাব দিয়েছিল যে তারা বিশ্ববাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) থেকে অবরোধ তুলে নেবে এবং যুদ্ধ সমাপ্তির দিকে হাঁটবে। তবে বিনিময়ে তাদের ওপর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নিতে হবে। সবথেকে বড় বিষয়, ইরান চেয়েছিল তাদের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে মূল আলোচনা এখন নয়, বরং পরবর্তী কোনো সময়ে করা হোক।
ট্রাম্পের ‘না’ কেন?
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের মতে, পরমাণু ইস্যুকে সরিয়ে রেখে কোনো সমাধান সম্ভব নয়। ট্রাম্পের স্পষ্ট বার্তা:
পরমাণু জট আগে: ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং পরমাণু অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ বন্ধ না হলে কোনো চুক্তিতে সই করবে না আমেরিকা।
হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব: বিশ্বের খনিজ তেলের সিংহভাগ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। ইরান এটিকে ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করে আমেরিকার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে, যা ট্রাম্প মানতে নারাজ।
কূটনৈতিক চাপ: ওয়াশিংটন মনে করছে, এখন নমনীয় হলে ইরানের পরমাণু ভাণ্ডার আরও শক্তিশালী হবে, যা দীর্ঘমেয়াদী বিপদের কারণ হতে পারে।
বিশ্ব বাজারে প্রভাব
ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গেছে। ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
“আমরা একটা দীর্ঘস্থায়ী সমাধান চাই, কোনো সাময়িক স্বস্তি নয়। ইরানকে তার পরমাণু উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করতেই হবে।” — হোয়াইট হাউস সূত্রের বার্তা।
আগামী কয়েকদিন এই কূটনৈতিক টানাপোড়েন কোন দিকে মোড় নেয়, তার ওপর নির্ভর করছে গোটা বিশ্বের অর্থনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি। ট্রাম্প কি সামরিক পথেই হাঁটবেন নাকি ইরান পিছু হটবে? উত্তর খুঁজছে তিলোত্তমা থেকে তেহরান।





