বিয়ের ১২ দিনেই কাল সিঁদুর! ঝরনার ধারে মিলল রাজার পচা-গলা দেহ, বছর ঘুরতেই মুক্ত অভিযুক্ত স্ত্রী

পাহাড়ের নীল কুয়াশার মাঝে স্বামীকে নিয়ে হানিমুনে গিয়েছিলেন। কিন্তু মনে মনে এঁকেছিলেন এক ভয়ংকর মৃত্যুর ব্লু-প্রিন্ট। সেই হাইপ্রোফাইল ‘অপারেশন হানিমুন’ মামলার মূল অভিযুক্ত সোনম রঘুবংশী অবশেষে জামিন পেলেন। মঙ্গলবার মেঘালয়ের একটি আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করার পর দেশজুড়ে ফের শুরু হয়েছে বিতর্ক।

ঠিক কী ঘটেছিল সেই ‘রক্তাক্ত’ মধুচন্দ্রিমায়?

মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের বাসিন্দা রাজা রঘুবংশীর সঙ্গে গত বছরের ১১ মে বিয়ে হয়েছিল সোনমের। ২০ মে নবদম্পতি মেঘালয়ে পৌঁছান। পাহাড় আর ঝরনার মনোরম পরিবেশে রাজা যখন নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখছেন, তখন সোনম ব্যস্ত ছিলেন খুনের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে। ২৩ মে থেকে দুজনেই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান।

জঙ্গলে মিলল পচা-গলা দেহ

ব্যাপক তল্লাশির পর ২ জুন শিলংয়ের একটি গভীর জঙ্গলের ঝরনার ধার থেকে রাজার পচা-গলা মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সেই সময় সোনমের হদিশ না মেলায় চাঞ্চল্য আরও বাড়ে। অবশেষে ৯ জুন উত্তরপ্রদেশের গাজিপুরে একটি ধাবার কাছ থেকে পুলিশের কাছে ধরা দেন সোনম।

তদন্তে উঠে আসা চাঞ্চল্যকর তথ্য:

তদন্তকারীদের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ছিল সোনমের প্রেমিক রাজ কুশওয়াহা। পুলিশি জেরায় উঠে আসে হাড়হিম করা সব তথ্য:

  • প্রেমিকের জন্য কাঁটা সরাতে খুন: সোনম তাঁর প্রেমিক রাজের সঙ্গে ঘর বাঁধতে চেয়েছিলেন, তাই স্বামী রাজাকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন।

  • ভাড়াটে খুনি: প্রেমিকের সাহায্যে এবং বন্ধুদের সহযোগিতায় শিলংয়ে খুনের ফাঁদ পাতেন সোনম।

  • মোট গ্রেফতার: এই মামলায় সোনম ও তাঁর প্রেমিক-সহ মোট ৮ জনকে গ্রেফতার করেছিল মেঘালয় পুলিশ।

জামিনে মুক্তি:

গত এক বছর ধরে জেলে থাকার পর অবশেষে আইনি লড়াইয়ে কিছুটা স্বস্তি পেলেন সোনম। মেঘালয়ের আদালত তাঁকে জামিন দিয়েছে। তবে রাজ রঘুবংশীর পরিবার এই সিদ্ধান্তে হতাশ। দেশের অন্যতম চর্চিত এই ‘হানিমুন মার্ডার’ কেস এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy