বাংলার ভোট ময়দানে এবার মুখোমুখি সম্মুখ সমরে তৃণমূলের হেভিওয়েট নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং নির্বাচন কমিশনের ‘স্পেশাল’ পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মা। ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ থেকে শুরু করে ‘এনকাউন্টার’ তত্ত্ব— সব মিলিয়ে শেষ দফার ভোটের আগে নতুন বিবাদে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি।
বিতর্কের নেপথ্যে কী?
দমদম উত্তরের তৃণমূল প্রার্থী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে সম্প্রতি ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ ওঠে। এর পরেই ময়দানে নামেন উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা দাপুটে আইপিএস আধিকারিক অজয় পাল শর্মা। তিনি কড়া বার্তা দিয়ে জানান, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনও ধরনের হুমকি বা ভয় দেখানো বরদাস্ত করা হবে না। অভিযুক্ত যেই হোক, কঠোর ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন।
চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের পাল্টা তোপ
অজয় পাল শর্মার এই ‘কঠোর’ অবস্থানের পরেই এনকাউন্টার ইস্যু টেনে পাল্টা আক্রমণ শানান চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। জনৈক পুলিশ পর্যবেক্ষকের ইউপি-র ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ ভাবমূর্তিকে কটাক্ষ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন:
“এনকাউন্টার বলতে ঠিক কী বোঝায়? যদি কোনও অভিযুক্ত পুলিশের হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টা করে, তবে তার জন্য নির্দিষ্ট আইন ও নিয়ম রয়েছে। আইনের বাইরে গিয়ে এনকাউন্টার নিয়ে এমন প্রচার বা কথাবার্তা বলা কি সম্ভব?” নেত্রীর সাফ কথা, গণতান্ত্রিক কাঠামোয় সংবিধান এবং নির্ধারিত নিয়মকানুনের বাইরে গিয়ে কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায় না। আইনের সীমা লঙ্ঘন করা যে কোনও মূল্যে আটকানো উচিত।
উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিবেশ
একদিকে নির্বাচন পর্যবেক্ষকের ‘সিংহাম’ স্টাইলে হুঁশিয়ারি, অন্যদিকে শাসক দলের প্রার্থীর সাংবিধানিক ব্যাখ্যা— এই দ্বন্দ্বে সরগরম তিলত্তমা।
বিরোধীদের দাবি: ভোট অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে কড়া পুলিশি পদক্ষেপ জরুরি। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই শেষ কথা।
তৃণমূলের অবস্থান: ভিত্তিহীন অভিযোগের ভিত্তিতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভীতির পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। আইনের শাসন বজায় রাখতে হবে।





