ভোট উৎসবের কারণে টানা ১৫ দিনের বিরতি। দীর্ঘ ছুটির পর সোমবার উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে সরকারি স্কুলের দরজা খুললেও দেখা গেল এক অদ্ভুত চিত্র। দক্ষিণ দিনাজপুরের স্কুলগুলোতে ঘড়ির কাঁটা মেনে শিক্ষকরা হাজির হলেও, বেঞ্চগুলো পড়ে রয়েছে ফাঁকা। পড়ুয়াদের উপস্থিতির হার এতটাই কম যে শিক্ষা মহলে তৈরি হয়েছে চরম উদ্বেগ।
শূন্য ক্লাসরুম, চিন্তায় শিক্ষকরা: গত ১৫ দিন ধরে ভোটগ্রহণ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর যাতায়াতের কারণে স্কুলগুলিতে পঠন-পাঠন বন্ধ ছিল। কথা ছিল, সোমবার থেকে পুনরায় স্বমহিমায় ফিরবে ক্লাস। কিন্তু দক্ষিণ দিনাজপুরের অধিকাংশ ব্লকেই দেখা গেল উল্টো ছবি। অনেক বড় স্কুলেও ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি মোটে ১০-১৫ শতাংশ। শিক্ষকরা বলছেন, “এত লম্বা ছুটির পর ছাত্রছাত্রীদের স্কুলমুখী করতে বেগ পেতে হচ্ছে।”
কেন এই অনুপস্থিতি? স্থানীয় সূত্রে এবং অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে উঠে আসছে একাধিক কারণ:
ছুটির আমেজ: দীর্ঘ ১৫ দিন বাড়িতে থাকায় ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে এক ধরণের আলস্য তৈরি হয়েছে।
ভোটের রেশ: অনেক স্কুলে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকার কারণে আসবাবপত্র সরানো বা সাফাইয়ের কাজ চলায় পঠন-পাঠনের পরিবেশ পুরোপুরি ফেরেনি বলে অনেক অভিভাবক মনে করছেন।
পরিবহন সমস্যা: ভোটের কারণে অনেক এলাকায় এখনও স্বাভাবিক যান চলাচল পুরোদমে শুরু হয়নি, যা পড়ুয়াদের স্কুলে আসার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শিক্ষা মহলের প্রতিক্রিয়া: জেলার শিক্ষা আধিকারিকরা এই ঘটনায় বেশ উদ্বিগ্ন। তাঁদের মতে, এভাবে ক্লাসরুম ফাঁকা থাকলে সিলেবাস শেষ করা কঠিন হয়ে পড়বে। স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে দ্রুত অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পড়ুয়াদের ক্লাসে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়।
ভোট মিটলেও তার রেশ যে এখনও শৈশবের পড়াশোনায় ধাক্কা দিচ্ছে, দক্ষিণ দিনাজপুরের এই ছবিটাই তার প্রমাণ।





