আপনি কি নিয়মিত WhatsApp ব্যবহার করেন? তবে আপনার জন্য রয়েছে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খবর। সামান্য অসতর্কতা বা নিয়ম লঙ্ঘন করলেই চিরতরে বন্ধ হয়ে যেতে পারে আপনার প্রিয় মেসেজিং অ্যাকাউন্টটি। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টে পেশ করা এক চাঞ্চল্যকর তথ্যে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের শুরু থেকেই ৯,৪০০-এরও বেশি WhatsApp অ্যাকাউন্ট সম্পূর্ণভাবে ব্লক করে দিয়েছে মেসেজিং প্ল্যাটফর্মটি।
কেন এই কড়া পদক্ষেপ?
বর্তমানে দেশজুড়ে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। সুপ্রিম কোর্টে চলা একটি মামলার শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল আর ভেঙ্কাটারামনি জানান, এই ধরনের প্রতারণা রুখতে কেন্দ্রীয় তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রক, টেলিকমিউনিকেশন মন্ত্রক এবং সাইবার ক্রাইম কো-অর্ডিনেশন সেন্টারের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে Meta (WhatsApp-এর অভিভাবক সংস্থা)।
প্রতারকরা সাধারণত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে এই জাল ছড়ায়। দিল্লি পুলিশ, CBI বা ATS-এর লোগো ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট খুলে তারা সাধারণ মানুষকে ভুয়ো মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়। এই অপরাধচক্র ভাঙতেই কোপ বসানো হয়েছে হাজার হাজার অ্যাকাউন্টে।
কীভাবে প্রতারকদের ধরছে WhatsApp?
প্রতারকদের চিহ্নিত করতে Meta এখন ব্যবহার করছে অত্যাধুনিক ‘লোগো ম্যাচিং সিস্টেম’ (Logo Matching System)।
অফিসিয়াল লোগো শনাক্তকরণ: কোনো ব্যবহারকারী যদি পুলিশ বা সরকারি দপ্তরের লোগো অবৈধভাবে ব্যবহার করে প্রোফাইল পিকচার সেট করে, তবে এই সিস্টেম দ্রুত তা ধরে ফেলে।
লিঙ্ক ও গ্রুপ ট্র্যাকিং: শুধু সরাসরি প্রতারণা নয়, যারা ভুয়ো লিঙ্ক শেয়ার করছে বা সন্দেহজনক গ্রুপে প্রতারণামূলক তথ্য প্রচার করছে, তাদের অ্যাকাউন্টও রেহাই পাচ্ছে না।
ভয়াবহ পরিসংখ্যান: খোয়া গিয়েছে কোটি কোটি টাকা
Data.gov.in-এর তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে ডিজিটাল প্রতারণার গ্রাফ আকাশছোঁয়া। রাজ্যসভায় পেশ করা তথ্যে দেখা যাচ্ছে:
| বছর | প্রতারণার ঘটনা | খোয়া যাওয়া অর্থের পরিমাণ |
| ২০২২ | ৩৯,৯২৫টি | ৯১.১৪ কোটি টাকা |
| ২০২৩ | ৬০,৬৭৬টি | ৩৩৯.০৩ কোটি টাকা |
| ২০২৪ | ১,২৩,৬৭২টি | ১৯৩৫.৫১ কোটি টাকা |





